আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এন্টি-রেট্রোভাইরাল ট্রিটমেন্ট সারা বিশ্বে এইডসের বিস্তার রোধ করবে। এন্টি-রেট্রোভাইরাল ওষুধকে বলা হয় এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। এ ধরনের ওষুধের প্রথম বাজারে আসে ১৯৮৭ সালে। এরপর ১৯৯৫, ১৯৯৭, ২০০৩ ও ২০০৭ সালে এর বিভিন্ন সংস্করণ বাজারে ছাড়া হয়।
গবেষকরা বলছেন, এইচআইভি এইডস আক্রান্ত রোগীর ওপর এসব ওষুধ প্রয়োগের জন্য প্রতি বছর ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলার লাগবে। যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়াগোতে বিজ্ঞান অগ্রগতিমূলক সংস্থার বার্ষিক সভায় বিজ্ঞানী ড. ব্রাইন উইলিয়াম এ কথা জানান। ড. উইলিয়াম দক্ষিণ আফ্রিকার সেন্টার ফর এপিডেমিওলোজিকাল মডেলিং অ্যান্ড এনালাইসিসের এইচআইভি গবেষণায় একজন নেতৃত্বস্থানীয় বিজ্ঞানী।
এ ওষুধের নতুন সংস্করণ এইচআইভি জীবাণুর দুটো বিশেষ এনজাইমকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। ফলে এইচআইভি জীবাণু নিজেকে বিভাজিত করে অধিক সংখ্যায় বাড়াতে পারে না। একই সঙ্গে এইচআইভির জীবনচক্রের আয়ুষ্কাল কমিয়ে দেয় এবং সব মিলিয়ে এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর শরীরে এ জীবাণুর সংখ্যা কমতে শুরু করে।
ড. উইলিয়াম আরো বলেন, 'বর্তমানে প্রতি বছর তিন কোটি মানুষ নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয় এবং ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। দুঃখের কথা হলো, রোগটি ক্রমশ দুর্দমনীয় হয়ে উঠছে। এ ওষুধের নতুন সংস্করণ প্রয়োগের ভেতরেই আমরা যা কিছু প্রকৃত সফলতার চিত্র দেখতে পাই। এই অতি কার্যকর ওষুধ প্রয়োগের ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির ভাইরাসের পরিমাণ দুই হাজার ভাগ নেমে আসবে, যা হয়ে দাঁড়াবে অনেকটা অসংক্রামকের কাছাকাছি।'
তবে গবেষকরা বলছেন, এইচআইভির প্রকৃত কার্যকর টিকা এখনো যোজন পথ দূরে। আর যদি টিকা আবিষ্কার হয়েও যায়, তাহলেও এরই মধ্যে যারা এইচআইভি আক্রান্ত, তাদের জন্য কী ব্যবস্থাপত্র থাকবে? দক্ষিণ আফ্রিকায় এখনই এ ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করা গেলে পাঁচ বছরের ভেতর এর চমৎকার ফল পাওয়া যাবে।
এরই মধ্যে উত্তর আমেরিকা ও আফ্রিকার সামান্য কিছু এলাকায় এ ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করা হয়েছে।
এইডসের মহামারীকে এবার আটকে দেওয়ার ব্যাপারে ড. উইলিয়াম যথেষ্ট আত্নবিশ্বাসী।
-বিবিসি নিউজ অবলম্বনে জাফর সাদেক শিবলী |