জাফর সাদেক শিবলী: ১৯, মে: এ শ্লোগানের মাধ্যমে জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির জীব রক্ষার আহবান জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে,মানব প্রজাতি আর মিলিয়ন মিলিয়ন জীবজগত একত্রে পৃথিবীকে অধিকতর নিরাপদ রাখতে পারে। কারন জীবজগত রক্ষা করা ছাড়া আমাদের পৃথিবী বিবর্ণ।
জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচী(ইউএনইপি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পৃথিবীতে প্রায় ৫-১০০ মিলিয়ন প্রজাতির জীব আছে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা তার মাত্র ২ মিলিয়ন খুজে বের করতে সক্ষম হয়েছেন। পৃথিবীর আবিষ্কৃত ও অনাবিষ্কৃত সব প্রাণীকূলের মধ্যে মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অথচ ধ্বংস হচ্ছে অন্যান্য প্রাণীকূল।
পরিসংখ্যানে আরো বলা হয়, ১৭হাজার ২’শ ৯১টি জীবপ্রজাতি বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। এ বিলীন হতে যাওয়া প্রাণীকূলের মধ্যে আছে বিভিন্ন প্রজাতির পোকামাকড়, পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণী।
এসবের পিছনে সরাসরি মানুষের হাত রয়েছে । হাজারো ভাবে প্রাণীকূল ধ্বংস থেকে আমরা বিরত হচ্ছিনা।
প্রাণীকূলের রক্ষায় ইউএনইপি ২০১০ সালকে আন্তর্জাতিক বায়োডাইভার্সিটি বর্ষ ঘোষণা করেছে। বায়োডাইভার্সিটি হল এমন একটি পদ্ধতি যা পৃথিবীর সব জীবের অস্তিত্বকে প্রমাণ করে। এ ঘোষণার মাধ্যমে জাতিসংঘ জীবকূলের রক্ষায় মানুষকে সচেতন করার একটি ভালো পদ্ধতি গ্রহণ করেছে ।
দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন তার বানীতে বলেন, জীবপ্রজাতি বিশ্বজুড়ে হুমকির মুখে। রেকর্ডসংখ্যক জীব প্রজাতি খুব দ্রুত নিশ্চিহ্নের পথে। এসবের সাথে যোগ হচ্ছে দূষিত পানির সমস্যা।
তিনি বলেন, ‘এসব হুমকি মোকাবেলা ও প্রাণী জগত রক্ষায় আচরণ পরিবর্তন খুব জরুরী।’
জাতিসংঘের উপ-মহাসচিব এবং জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচীর নির্বাহী পরিচালক অসিম স্টেইনার তার বানীতে বলেন, ‘জীবজগতের ক্রমান্বয়ে ধ্বংসের কারনে পৃথিবী প্রতিবছর অঘোষিতভাবে ২-৫ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছে।’
এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবস মূলত রুয়ান্ডাকে ঘিরে ঝাঁকজমকভাবে পালিত হবে। আফ্রিকার জলবেষ্টিত এই দেশটি সবুজায়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখে চলছে। কিভাবে দারিদ্র্যতা ও ভূমিক্ষয়ের মধ্যে একটি দেশ সবুজায়নে স্বাক্ষর রাখতে পারে তার উদাহরন রুয়ান্ডা। এছাড়া বিলুপ্ত গরিলাসহ ৫২ প্রজাতির বিভিন্ন প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে গড়ে উঠেছে রুয়ান্ড।
জাতিসংঘ মহাসচিব রুয়ান্ডার সবুজায়ন পদ্ধতিকে সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করছেন।
|