এইচ এম দিদার: ২৩ মার্চ বিশ্ব পানি দিবস। এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যকর বিশ্বের জন্য স্বচ্ছ পানি’। একই সাথে পানির মানের উপরে ও জোর দেয়া হয়েছে এবারের দিবস পালনে। জাতীয় পেক্ষাপটে দিবসটি নি:সন্দেহে তাৎপর্যের দাবী রাখে। গত ১৫ মার্চ সুপ্রিমকোর্ট সরকারের প্রতি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য রুল জারি করেছিল। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে চলমান বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ গত ১৪ মার্চ হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করে। এর পুর্বে করা হয়েছিল জাতীয়ভাবে দেশের বৃহৎ পানি নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াসা’র প্রতি।
কারণ হিসেবে দেখা যায় রাজধানীতে ওয়াসার সরবরাহ করা পানিতে দুর্গন্ধ। একে তো পানি সংকট তার উপর দুর্গন্ধময়। এ পানি খাওয়া তো দূরের কথা সাংসারিক অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। নগরবাসীদের মধ্যে অনেকের ধারণা পয়ঃনিষ্কাশন লাইনের সাথে ওয়াসার পাইপের সংযোগ হওয়ায় এমন দুর্গতির সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা সহজ অভিযোগ ওয়াসা কর্তৃপক্ষ অপরিশোধিত, পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি খাওয়াচ্ছে নগরবাসীকে। পানি নিয়ে এই দুর্বিষহ ভোগান্তির পরিসমাপ্তি কামনা করেছেন অনেকেই।
রাজধানীর অনেক এলাকাতেই সুপেয় পানির জন্য সারিবদ্ধ পাত্র সাজিয়ে অপেক্ষা করতে হয় কয়েক ঘন্টা। বিশুদ্ধ পানির জন্য চারদিকে সৃষ্টি হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও কোন সুফল পাচ্ছেন না। গতবছরের তথ্যমতে প্রতিদিন প্রায় ৮০ কোটি লিটার পানি ঘাটতি নিয়ে গ্রীষ্ম মওসুম শুরু করছিল ঢাকা ওয়াসা। এ বছর বিদ্যুতের অস্বাভাবিক লোড শেডিংয় এবং পানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে পানির ঘাটতি আরও বাড়ছে। ফলে রাজধানী জুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট।বাধ্য হয়ে দুষিত পানি পান করছে রাজধানীবাসী। আক্রান্ত হচ্ছে নানাবিধ জটিল রোগে।সম্প্রতি জানা যায় আইসিড়িড়িআরবিতে পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। জনজীবনে নিদারুন ভোগান্তির আশু সম্ভাবনা ও দেখা দিচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকে সুপেয় বাজারজাত পানি উচ্চমুল্যে ব্যবহার করছে। ইদানিং সেটির উপর আস্থা রাখাও বড় কঠিন। কেননা গত ১৩ মার্চ বিএসটিআই এরকম ১০ টি প্রতিষ্ঠানকে দুষিত পানি বাজারজাত করার জন্য জরিমানা করেছে।
শুধুমাত্র রাজধানীতে নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এ মৌসুমে পানির খুব বড় রকমের সংকট থাকে। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় ভাতের চালের বিনিময়ে বিশুদ্ধ পানি কিনে নিচ্ছে গ্রামের হতদরিদ্র মানুষগুলো। জলাবায়ুর পরিবর্তন, নদীতে বঁাধ, সহ নানাবিধ কারনে আবহমান গ্রাম বাংলার মানুষও পানি সংকটে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছে। উপরন্তু ৭কোটি মানুষ আর্সেনিকে আক্রান্ত। যা তাদের জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে হুমকিস্বরুপ।
তবে আশার দিক হল দেশের নদ-নদী রক্ষায় নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। দূষণ ও দখলমুক্ত করে নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে এবং নৌপথের উন্নয়নে ইতোমধ্যে সরকার কাজ শুরু করেছে। নাব্যতা পুনরুদ্ধারে প্রায় ১১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রযোজন এ ধরণের বহু পদক্ষেপ এবং সেগুলোর সফল বাস্তবায়ন। নইলে আগামী দিনে অস্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ধারণাতীতভাবে জলবায়ুর পরিবর্তনে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টিতে পানীয় জলের সঙ্কট আরো তীব্রতর হওয়ার আশঙ্কা। আমাদের স্বাস্থ্যে এমনকি অস্তিত্ব ধরে রাখতে যা হবে চরম হুমকি। তাই আরো বেশি সতর্কতার প্রয়োজন। আর তা শুরু করতে হবে এখন থেকেই।
|