জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

অবহেলায় ভেষজ ঔষধ: সরকারি পৃষ্টপোষকতা জরুরী

নাজিবুল্লাহ (১১ আগস্ট, মঙ্গলবার): দেশে ভেষজ ওষুধের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ অবহেলার শিকার এই সেক্টর। ফলে উদ্যোগের অভাবে ভেষজ সেক্টরে সরকার হারাচ্ছে হাজার কোটি টাকা। আর তাই প্রতিবছর দেশে ভেষজ আমদানিতে খরচ হয় প্রায় ৫শ কোটি টাকা। কিন্তু সরকার উদ্যোগী হলে দেশের পরিত্যক্ত জমিতে ভেষজ উদ্ভিদ চাষ করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বছরে কমপেক্ষ ৫শ কোটি টাকার ভেষজ রফতানি করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে বিশ্বের ভেষজ বাজার এখন দখল করে আছে চীন, ভারত ও কোরিয়া। অথচ আমাদের দেশের মাটি ভেষজ উদ্ভিদ চাষে অত্যন্ত উপযোগী হওয়া সত্ত্বেও এর কোন প্রসার নেই। দেশের অধিকাংশ উদ্ভিদ এবং লতাগুল্মই ভেষজ গুণসম্পন্ন। আর গবেষণার মাধ্যমে এ সেক্টর আরও সমৃদ্ধ করা যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ভেষজ উদ্ভিদের বাজার রয়েছে। প্রতি বছর এ চাহিদা ১০ দশমিক ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যে ভেষজ উদ্ভিদের বাজার গড়ে উঠেছে।

মডার্ন হারবাল-এর চেয়ারম্যান ডা. আলমগীর মতির মতে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ভেষজ উদ্ভিদ সেক্টর গার্মেন্টস শিল্পের মত একটি বৃহৎ লাভজনক খাতে পরিণত হতে পারে। তিনি জানান, মডার্ন হারবালের ৩শ একর ভূমির উপর ১২টি ভেষজ উদ্ভিদের বাগান আছে। এ বাগানের উদ্ভিদ থেকে বছরে প্রায় পাঁচ/সাত কোটি টাকার ওষুধ প্রস্তুত করা হয়। তার মতে, সরকার ভেষজ ওষুধের উপর ৪০ শতাংশ কর ও চলমান ১৫ শতাংশ মূসক অব্যাহত রেখেছে। যা এ খাতের উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে। সম্ভাবনাময় ভেষজ খাত প্রসারে আরোপিত এ কর প্রত্যাহার করা উচিত।

এ খাতের সাথে জড়িতরা বলেন, ভেষজ উদ্ভিদ চাষের জন্য আলাদা কোন জমি প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আনাচে-কানাচে পরিত্যক্ত জমিতে অনায়াসেই এসব উদ্ভিদের চাষ করা যায়। এছাড়া এ গাছ লাগাতে কৃষককে কোন বেগও পেতে হয় না। সার বা কীটনাশক দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না বিধায় এর কোন খরচ নেই। এছাড়া ছোটখাটো রোগ-ব্যাধিতে এ সব দিয়ে পরিবারের লোকদের চিকিৎসা নিজেরাই করতে পারেন।

উন্নত দেশগুলোতে যেসব এলোপ্যাথিক ওষুধ তৈরি করা হয় তার প্রায় ৩৩ শতাংশ ভেষজ রাসায়নিক থেকে প্রস্তুত। এর মধ্যে রাশিয়ায় প্রস্তুত ও ব্যবহৃত এলোপ্যাথিক ওষুধের ৪৭ শতাংশেরও বেশি আসে ভেষজ উদ্ভিদ থেকে। ফ্রান্স ও জার্মানিতে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ চিকিৎসক ভেষজ ওষুধের উপর নির্ভর করে থাকেন।