জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

বাজারভর্তি ভেজাল মিনারেল ওয়াটার: চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নগরবাসী

জাফর সাদেক শিবলী
আমারহেলথ (০৩ জানুয়ারী): রাজধানীতে নিরাপদ পানি পাওয়া ক্রমেই দুষ্কর হয়ে পড়ছে। অধিকাংশ পানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শুদ্ধতা অশুদ্ধতার বাছ বিচার না করেই বাজারজাত করছে পানি। শতাধিক নাম নিবন্ধনহীন এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শুদ্ধতার ব্যাপারে প্রশ্ন উঠছে।
অনুসন্ধানে দেখাগেছে, একটি অসৎচক্র নামকরা ভালো প্রতিষ্ঠানের বোতলের সিল নকল করে ওয়াসার পানি বিক্রি করছে ।
বিশেষজ্ঞের মতে, বেশিরভাগ মিনারেল ওয়াটারে পাওয়া যাচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত জীবাণু। এসব পানিতে লেড, ক্যাডমিয়াম ও জিঙ্ক উপাদানের বিন্দুমাত্র অস্তিত্ব নেই।
রাজধানীর আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন এসব কারখানা। এদের কারোরই নেই বিএসটিআইর অনুমোদন। ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে কোনোমতে পানি শোধনের যন্ত্র স্থাপন করেই নোংরা পরিবেশে চলছে ব্যবসা। এরা ওয়াসার পানি বোতলজাত করে নাম দেয় মিনারেল ওয়াটার।
অনুমোদন ছাড়া পানি বিক্রির অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে বিএসটিআই। ওয়াসার পানিই প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করার কথাও স্বীকার করেছেন একাধিক ব্যবসায়ী। তবে বিএসটিআইর লাইসেন্স না নিয়ে কেন ব্যবসা শুরু করেছেন সে ব্যাপারে জানতে চাইলে কোনো উত্তর দিতে পারেননি তারা। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীসহ সারা দেশে বিএসটিআই অনুমোদিত পানি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠান আছে ৩২৫টি। এর মধ্যে মিনারেল পানি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আছে ১৫টি। নিয়ম না মানায় ৫৫টি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল করেছে বিএসটিআই। কিন্তু এ রকম অসংখ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলোর কোন নাম-পরিচয়ই নেই। 
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, মাঝে-মধ্যে এ ধরনের অবৈধ খাবার পানির ব্যবসায়ীদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নেয় ওয়াসা। ২০৩টি প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়। তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ৫০ হাজার টাকার ডিমান্ড নোট জমা দেয়ার কথা বলা হয়। ৯০টি প্রতিষ্ঠান কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন করে। এর মধ্যে মাত্র ৫৩টি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় শর্ত পালন করতে সমর্থ হয়।
অন্য ১৩৭টি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, মানসম্মত কারখানা দেখাতে পারেনি। তাই ওইসব প্রতিষ্ঠানকে পানি সরবরাহের অনুমতি দেয়নি ওয়াসা।
কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিনারেল ওয়াটারের নামে বোতল ও প্যাকেটজাত পানি পান করে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
পানি বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএম ইমামুল হক বলেন, মিনারেল ওয়াটার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী উপাদানগুলো দিচ্ছে কিনা তা যাচাইয়ের জন্য নিয়মিত মনিটরিং দরকার। এ ব্যাপারে উদাসীনতার কারনে মানুষ স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে।