জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

উন্নয়ন সমন্বয় ও বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞদের অভিমত

তামাক থেকে উচ্চহারে কর আদায় করে বিকল্প কর্মসংস্থান ও চিকিৎসায় ব্যায়ের দাবি

নাজিবুল্লাহ: তামাকের কারণে প্রতিবছর ১২ লক্ষ মানুষ ক্যান্সার, যক্ষাসহ ৮টি কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ বিরাট জনগোষ্ঠির চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর  ১১হাজার কোটি টাকা ব্যায় হচ্ছে। তামাকের কারণে দেশে প্রতি বছর ৫৭ হাজার জন মৃত্যুবরণ এবং ৩ লক্ষ ৮২ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করছে। বিশাল এ জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষা এবং তামাক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে তামাকজাত দ্রব্যের উপর উচ্চহারে কর আরোপ করে অতিরিক্ত আদায়কৃত রাজস্ব থেকে বিকল্প কর্মসংস্থান ও চিকিৎসার অর্থের যোগান দিতে হবে। ‌‌‌উন্নয়ন সমন্বয় ও বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট কর্তৃক আয়োজিত ‌‌‌‌‌‍‌‌‌‌প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের উপর কর বৃদ্ধির গুরুত্ব শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞগণ এসব কথা বলেন।

উন্নয়ন সমন্বয় এর প্যাট প্রকল্পের সমন্বয়কারী চিন্ময় মুৎসুদ্দী’র সভাপতিত্বে বৈঠকে আলোচনা করেন মানস এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. অরূপরতন চৌধুরী, উবিনীগ এর নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আকতার, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এর চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এর সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ ড. জুলফিকার আলী, দি ইউনিয়ন এর টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট ড. আকরামুল ইসলাম। সভায় লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর প্রকল্প কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম সুজন।

অধ্যাপক ডা. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি শিক্ষা, অর্থ, পরিবেশসহ সব মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ তামাক শুধু মানুষকে মেরে ফেলছে না, তামাক চাষ ও বিড়ি কারখানায় কাজ করার কারণে শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উন্নত বিশ্বে প্রতি বছর তামাকের উপর ১০% কর আরোপ করছে, ফলে ধূমপায়ীর সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ধূমপায়ীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ দেশে ৯০ বছর পূর্বে আইন হয়েছে ১৬ বছর বয়সীদের কাছে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ। তামাক চাষের কারণে আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন। তামাক নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে চাকুরির সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।

ফরিদা আকতার বলেন, সম্প্রতি কক্সবাজার ও পার্বত্য এলাকায় যে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটছে তামাক চাষও এজন্য দায়ী। কারণ তামাক চাষের জন্য পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ের গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে।

আবু নাসের খান বলেন, তামাক দেশের পরিবেশ এর উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পার্বত্য এলাকায় তামাক চাষ বন্ধ না করা গেলে সেখানে পাহাড় ধ্বসসহ পরিবেশ বিপর্যয় আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে। এজন্য তামাক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে পরিবেশ দূষণ করার জন্য ক্ষতিপূরন আদায় করতে হবে।

অর্থনীতিবিদ ড. জুলফিকার আলী বলেন, তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার হ্রাসে মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এ বছর জাতীয় বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের উপর পর্যাপ্ত হারে কর বাড়েনি। বিশেষ করে বিড়ির উপর কর না বাড়ানো মানে গরীব মানুষকে জীবনঘাতী পণ্যের দিকে ঠেলে দেয়া। বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ৪৩.৩% (৪১.৩ মিলিয়ন) প্রাপ্ত বয়স্ক লোক তামাক ব্যবহার করে। দেশের একটা বড় অংশ বিড়ি সেবন করে। বিড়ির দাম না বাড়ার কারণে দেশে বিড়ি সেবনের হার বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সিগারেটের উপর প্রস্তাবিত কর আরও বাড়ানো দরকার।