জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

বিলুপ্তির মুখে সেন্ট মার্টিনের জীব বৈচিত্র

বঙ্গপোসাগরের বুকে অবস্থিত প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন পর্যটকদের কাছে খুই আকর্ষণীয়। টেকনাফ থেকে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার দুরে উত্তর-দক্ষিনে সাত কিলো মিটার দীর্ঘ বঙ্গপোসাগরের এই দ্বীপটিতে প্রায় ছয় হাজার মানুষ বাস করে। পর্যটন মৌসুমে দৈনিক প্রায় দেড় হাজার পর্যটক এখানে ভ্রমন ও অবস্থান করে। অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ ও তাদের অনিয়ন্ত্রিত কর্মকান্ডে দ্বীপটির জীব বৈচিত্র আজ বিলুপ্তির মুখে। এমনটি বলা হয়েছে দ্বীপটির উপর তৈরি করা পরিবেশগত নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। সম্প্রতি প্রতিবেদনটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে দ্বীপে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা হোটেল ও অন্যান্য অবকাঠামোর সাথে পর্যর্টকদের অনিয়ন্ত্রিত কর্মকান্ড, তাদের খাদ্য ও পানি সরবরাহ ও অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে দ্বীপের পরিবেশ মারাত্বকভাবে দূষিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয় হোটেলের মালিকরা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সমুদ্রের পাশে জেনারেটর চালু রাখে। হোটেলের আলো, জেনারেটারের শব্দ ও পর্যটকদের কোলাহলের কারণে কচ্ছপ তীরে উঠে ডিম পারতে পারে না। ফলে তাদের বংশ বিস্তার বাধার মুখে পড়ছে। এতে জেলি ফিসের সংখ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলি ফিস সমুদ্রের ছোট খাটো মাছ ও অন্যান্য প্রাণী ধ্বংস করে। যেখানে কচ্ছপ জেলি ফিস খায়। কচ্ছপ অমাবস্যার রাতে স্থলভাগের অশ্রয় নেয় বালুতে ডিম পাড়তে। পরিবেশবাদীদের মতে সামান্য শব্দে ও আলোতে কচ্ছপ ডিম পাড়তে পারে না। টানা তিন দিন শব্দ ও আলোহীন পরিবেশ না পেলে কচ্ছপ হয় সাগরে ডিম পারে নতুবা ডীম পাড়তে না পেরে মারা যায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরনের প্রতিবেদনে সরকারের প্রতি দু’টি শুপারিশ করা হয়েছে। প্রথমত দ্বীপের বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া,
দ্বিতীয়ত পর্যটকদের যাতায়াতের উপর নিয়ন্ত্রন আরোপ করা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা, যাতে টেকনাফ থেকে পর্যটকরা দ্বীপে যেয়ে ৫/৬ ঘন্টা ভ্রমন শেষে আবার টেকনাফ ফিরে যেতে পারে। পরিবেশবিদ এস এম মঞ্জুরুল হান্নান খানের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি দল প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।