এইচ এম দিদার: দেশে তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর ৫৭ হাজার মানুষ মারা যায় এবং ৩ লাখ ৮২ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৪৩.৩ শতাংশ মানুষ তামাক ব্যবহার করছে। এদের মধ্যে ২৩ শতাংশ ধূমপান করছেন আর বাকিরা ধোঁয়া বিহীন তামাক ব্যবহার করেন। তামাক ব্যবহারের কারণে মানুষ ৩০ টিরও বেশি রোগে আক্রান্ত হয়। গত ২৮ মার্চ 'তামাকের ওপর কর বৃদ্ধি: পরিপ্রেক্ষিত বাজেট ২০১০-১১' শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে উন্নয়ন সমন্বয় পলিসি এন্ড এ্যাডভোকেসি ফর টোব্যাকো ট্যাঙ্সেন এর উদ্যোগে আয়োজিত এ আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা রাখেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন সমন্বয়ের প্রকল্প সমন্বয়কারী চিন্ময় মুৎসুদ্দী ও শাহীন-উল-আলম এবং অনুষ্ঠান কর্মকর্তা সুজানা করিম।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ তার বক্তৃতায় ব্যাংকগুলোকে তামাক চাষে ঋণ না দেয়ার আহবান জানান। তিনি আরও বলেন, সিগারেটের ব্যবহার কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের ব্যাপক নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। তা হলেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য, দারিদ্র্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশের ওপর তামাকের নেতিবাচক প্রভাব অনেক। তাই তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করেন বক্তারা। এ লক্ষ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণে সকল ব্রান্ডের সিগারেটের ওপর ২৩ শতাংশ কর বৃদ্ধি করাসহ ৬ দফা সুপারিশ করা হয়। ৬ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলো হলো বিড়ির ওপর ২৬ শতাংশ কর বাড়ানো।
বক্তারা আরও বলেন, তামাকের ব্যবহার কমানোর জন্য সিগারেটের ওপর ২৩ শতাংশ কর বৃদ্ধি করতে হবে। কারণ এটি করা হলে সিগারেটের ব্যবহার ৪ থেকে ৬ শতাংশ কমে আসবে। এছাড়া সিগারেট ব্যবহারকারীদের ওপর ২ শতাংশ হারে স্বাস্থ্য উন্নয়ন কর ধার্যেরও সুপারিশ করা হয়।
|