জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

সীসাযুক্ত রং-এর উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের দাবি

নাজিবুল্লাহ: বাংলাদেশে ব্যবহৃত সব ধরনের রং-এ ক্ষতিকর সীসা রয়েছে এবং অধিকাংশ কোম্পানির রং-এ সীসার পরিমাণ সহনীয় মাত্রার চেয়ে অনেকগুন বেশি। সারা দেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮৮ ভাগ মানুষ কোন না কোনভাবে সীসাজনিত দূষণের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এদের মধ্যে শিশু এবং বয়স্করা সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। সীসাযুক্ত রং-এর উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে । তাছাড়া অবিলম্বে প্রচার অভিযানের মাধ্যমে দৈনন্দিন ব্যবহৃত রং-এ সীসার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগনকে অবহিত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করতে হবে। ১৯ জুন, শনিবার সকালে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), এনভায়রনমেন্ট এন্ড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) এবং বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘‘সীসাযুক্ত রং এর ব্যবহার ব্যাপকতা : মারাত্মক ঝুকি ও আমাদের করণীয়” শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক. এম মুহিবুররহমান সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ স ম আরেফিন সিদ্দিকী, উপস্থিত ছিলেন পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. জাফর মাহমুদসহ বিশেষজ্ঞগণ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, এসডোর সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রধান গবেষক ড. হোসেন শাহরিয়ার।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাড়িতে অফিস কারখানাসহ সকল জায়গায় রং এর ব্যবহার করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর সীসাযুক্ত রং এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকার স্বাধীনতার পর এ দীর্ঘসময়েও কোন পদক্ষেপ নেয়নি। যদিও উন্নত দেশগুলো অনেক আগেই এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। তিনি ‘‘সীসামুক্ত রং চাই’’ এ দাবির উপর নিয়মনীতি প্রণয়ন করতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৭৭,২২০ মেট্রিক টন শোভাবর্ধনকারী রং উৎপাদিত হয়। এর প্রায় ৯৮ ভাগ রং-এ সীসার পরিমান গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বহুগুন বেশি।

বর্তমানে বাংলাদেশে ছোট বড়, মাঝারি রং উৎপাদনকারী ৩৭টি কোম্পানি রয়েছে । তবে বাংলাদেশ পেইন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এসোসিয়েশন-এর আওতাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৩১টি।