এইচ এম দিদার: দেশের নদ-নদী রক্ষায় নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। দূষণ ও দখলমুক্ত করে নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে এবং নৌপথের উন্নয়নে ইতোমধ্যে সরকার কাজ শুরু করেছে। নাব্যতা পুনরুদ্ধারে প্রায় ১১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তিনটি ড্রেজার কেনা হয়েছে, প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরো ১০টি ড্রেজার। বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদের দূষণরোধে বরাদ্দ দেয়া ২২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। শুধুমাত্র নাব্যতা পুনরুদ্ধারই নয়, নদী দখলের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।
নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান এমপি নদী দখলকারীদের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, নদী দখলকারী ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের যে কোন মূল্যে উচ্ছেদ করা হবে। নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দিতে হবে। দখলকারীদের ব্যাপারে কোন ভাবেই পিছু হটবে না সরকার।
গত ১৩ মার্চ সকালে নৌপরিবহন মন্ত্রী মন্ত্রী নারায়ণগঞ্জ শহরের বরফকল মাঠে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ বন্দর কর্তৃপক্ষের দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও দুপুরে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের অফিসে গ্রীজার/সুকানিদের প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা জানান। পরে মন্ত্রী শীতলক্ষ্যা নদী পরিদর্শনে বের হন। এ সময় মন্ত্রী অচিরেই নারায়ণগঞ্জে মেরিন একাডেমি স্থাপন, জেলাবাসীর বহু কাঙ্খিত শীতলক্ষা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু এবং নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে ফেরি সার্ভিস চালুর আশ্বাস দেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সরকারের পর প্রতিটি সরকারই অবহেলা করে নদীপথ হত্যা করেছে। এতে নদীপথে দুর্ঘটনা বেড়েছে। বর্তমান সরকার আবারো নদীপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। বিভিন্ন নৌযানের চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া হলে অনেক অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। তিনি আরো বলেন, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে অব্যাহত নজিরবিহীন লুটপাটের কারণে দেশের ফেরি সার্ভিসসহ বিভিন্ন সেক্টরে চরম দুর্নীতি হয়েছে। বর্তমান মহাজোট সরকার সেসব সমস্যা দূর করে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে চলেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ফেরি স্বল্পতার কারণে অনেক স্থানে জনগণ চরম দুর্ভোগ আর বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধান করা হবে বলে মন্ত্রী আশ্বাস দেন।
|