
আমারহেলথ (২৪ অক্টোবর, রবিবার): পরিবেশ উন্নয়নে মেক্সিকোর কানকুনে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনসহ বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। মেধাসত্ত্ব আইন (আইপিআর-ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস) শিথিল করে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে বিনামূল্যে প্রযুক্তি সরবরাহে ঢাকার দাবির প্রতিও সমর্থন দেবে দেশটি। ১৯ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত চীন সফর শেষে দেশে ফিরে পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন।
চীনের ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এন্ড রিফর্মস কমিশনের চেয়ারম্যান জি জ্যাংহুয়া’র সাথে বৈঠক করেছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু ইস্যুতে চীন আমাদের সাথে কাজ করতে চায়। উভয় দেশই একমত হয়েছি যে, জলবায়ুর ক্ষতি করে আর কোন উন্নয়ন কর্মসূচি নেয়া হবে না। উন্নত দেশগুলোর মতো ঐতিহাসিক ভুলের পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকার বিষয়ে দু'দেশ একমত হয়েছে বলে জানান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী।
হাছান মাহমুদ বলেন, জলবায়ু বিপর্যয় ঠেকাতে উন্নয়নশীল দেশসমূহের জন্য কোপেনহেগেন সম্মেলনে যে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে সে অর্থ দ্রুত ছাড় করার বিষয়েও একমত পোষণ করেছে চীন। এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা দেয়ার জন্য যে তহবিল গঠন করা হয়েছে এ ফান্ড ব্যবস্থাপনায় অর্থ দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের প্রতিনিধিত্ব রাখার যে দাবি ঢাকা তুলেছে তার প্রতিও সমর্থন দিয়েছে তারা।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবেলার ক্ষেত্রে অভিযোজন ও ঝুঁকি প্রশমনে বাংলাদেশকে আর্থিক এবং কারিগরি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে চীন। এজন্য তারা দ্রুত সহায়তার ক্ষেত্রগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে জানাতে বলেছে।
পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার বিষয়েও সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে চীন। এছাড়া সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, চট্টগ্রাম-মিয়ানমার হয়ে চীনের কুনমিং পর্যন্ত হাইওয়ে নির্মাণে চীনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। চীন এ বিষয়ে সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান হাছান মাহমুদ।
প্রতিমন্ত্রী চীনের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিউ জেনমিন ও মিনিস্ট্রি অব ইনভায়রণমেন্টাল প্রটেকশন'র ভাইস মিনিস্টার উ ঝিয়াওপিং-এর সাথেও বৈঠক করেন। |