জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

প্রচন্ড খরা পরিস্থিতিতেও গাছ বেচে থাকবে !

এইচ এম দিদার (এএফপি অবলম্বনে): একদল বিজ্ঞানী অতিশয় একটি আশারবাণী শুনিয়েছেন৷ বাণীটি হচ্ছে খরা বা অনাবৃষ্টির মতো শুষ্ক পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে উদ্ভিদের এমন এক প্রকার জিনের আবিষ্কার করেছেন তারা৷ যার ফলে পরিবেশ বিপর্যয় তথা খাদ্য শস্য উত্‍পাদনে আশার আলো দেখা দিতে শুরু করেছে৷ কারণ বর্তমান সময়ে বৈশ্বির উষ্ণতা এমন এক পর্যায়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে যে, আগামী কয়েক দশকের ব্যবধানে পৃথিবী নামের সবুজ শ্যামল এ গ্রহ আদৌ জীবের বসতযোগ্য থাকবে কিনা তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা রীতিমতো সন্দিহান৷ সে ক্ষেত্রে উষ্ণায়ন বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান ও তা রোধের পাশাপশি বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন আবিষ্কার সত্যিই আশাব্যঞ্জক৷ এবার আসা যাক আবিষ্কারের সেই আশীর্বাদী জিনের কথায়৷
ফিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন তারা এমন এক প্রকার জিনের সন্ধান পেয়েছেন যা বায়ুমন্ডল থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে৷ একই সঙ্গে ঐ জিন বাষ্প আকারে বায়ুমন্ডলে পানি নিঃসরণের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে সক্ষম৷
বিজ্ঞান সাময়িকী ন্যাচারে প্রকাশিত নিবন্ধে গবেষক দল জানিয়েছেন, তারা সম্প্রতি ক্রেস নামে একপ্রকার উদ্ভিদ (সালাদে ব্যবহৃত এক প্রকার পাতা) নিয়ে ব্যাপক সমীক্ষা চালিয়েছেন৷ তাতে দেখা গেছে, আবিষ্কৃত জিন উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র (পাতার গায়ে অতিসূক্ষ্ম ছিদ্র) খোলা ও রন্ধ্র রাখার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে থাকে৷ ঐ জিন আরো কিছুটা মডিফাই বা সংস্কার করা যেতে পারে ৷ আর এ প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত জিন উদ্ভিদের বায়ুমন্ডল থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে৷ পাশাপাশি বাষ্পাকারে পানি নিঃসরণের মাত্রা কমিয়ে অতি শুষ্ক আবহাওয়ায়ও বেঁচে থাকতে পারে৷

গবেষক দলের প্রধান হেলসিকি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জ্যাকো ক্যাঙ্গাসজারভির ভাষায়, জিন সংক্রান্ত সমীক্ষায়এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ আবিষ্কার৷ এ আবিষ্কার উদ্ভিদ রক্ষায় নতুন দুয়ার উন্মোচন করেছে৷ এ ব্যাপারে আরো ব্যাপকভিত্তিক গবেষণা চালানো দরকার৷ আমার ধারণা আবিষ্কৃত নতুন জিন থিওরি ধানসহ অন্যান্য খাদ্য শস্য চাষাবাদেও ব্যবহৃত হতে পারে৷ আগামী দুই দশকের মধ্যে এটি বাণিজ্যিক চাষাবাদের অর্ন্তভুক্ত হওয়ার ব্যাপারেও তিনি আশাবাদী৷ তার মতে, মরুঅঞ্চল তথা খরাপ্রবণ এলাকায় এ প্রক্রিয়া কৃষিক্ষেত্রে  আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম৷ আর তাতে করে বর্তমান খাদ্য শস্য ঘাটতির একটা শান্তিপূর্ণ সমাধানও হতে পারে৷ অবশ্য একই সঙ্গে তিনি পরিবেশ বিপর্যয় তথা বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে নির্বিকার থাকার ব্যাপারে কঠোর সমালোচনা করেছেন৷ বিজ্ঞানের ছোট-খাটো আবিষ্কার হয়তো সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে৷ সার্বিক অবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন তাতে খুব একটা আশা করা যায় না৷ আর পরিবেশের মতো ব্যাপকভিত্তিক বিষয় আরো জটিল প্রকৃতি চলে আপন নিয়মে৷ সেক্ষেত্রে কৃত্রিমতার ছোঁয়া কতটা কার্যকর তাও বিচার্য বিষয়৷ তাই উদ্ভিদ জগতের পাশাপাশি মনুষ্যবসতির জন্য উপযোগী পৃথিবী গড়ে তোলা একান্তই জরুরি৷

টেকসই উন্নয়নের পথে পরিবেশ-বান্ধব নতুনতর কিছু প্রযুক্তি

এইচ এম দিদার

আমেরিকার আদি অধিবাসীদের প্রজ্ঞায় বলা আছে এই পৃথিবী আমরা আমাদের পূর্বপুরুষের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাই নি, বরং ধার করে এনেছি পরবর্তী প্রজন্মের কাছ থেকে; আর তাই পরবর্তী প্রজন্মকে একটি বসবাসযোগ্য ধরিত্রী উপহার দেওয়া আমাদের নীতিগত দায়িত্ব। এই দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করার জন্য অপচয়মূলক জ্বালানীনীতি, সম্পদের অপরিকল্পিত ব্যবহার, পানি সম্পদের অভাব, বিশ্ব জুড়ে জলবায়ুর পরিবর্তন ও বন উজাড় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে গভীর নজর দেয়া এখনই প্রয়োজন। অসতর্ক আশাবাদী হওয়ার আর সময় নেই। ২০২৫ সালের মধ্যে পৃথিবীতে অতিরিক্ত ২.৯ বিলিয়ন লোক পানীয় জলের অপ্রতুলতায় মারাত্মক ভুগবে। ২০৩০ সালের মধ্যে শক্তির প্রয়োজন বেড়ে যাবে ৬০ শতাংশ। তাই আমদের প্রয়োজন পরিবেশ বান্ধব নতুনতর অসংখ্য প্রযুক্তি যেগুলো আমদের প্রয়োজন পুরণ করবে একই সাথে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য টেকসই পৃথিবীর দ্বার কে উন্মোচন করবে। এমনতর গুরুত্ব পুর্ণ কিছু  পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তির পরিচিতি এ লেখায় তুলে ধরা হল।


১. পরিবেশ বান্ধব ইলেকট্রনিক কাগজ:
আমাদের মধ্যে অনেক কর্মজীবি মানুষ রয়েছে যারা কিনা সময়ের অভাবে পড়াশোনার অভ্যাস বা শখ থাকা সত্বেও প্রিয় বই পড়তে পারছেনা। আবার অনেক সময় বইয়ের বোঝা বহন করাও কম কষ্ট সাধ্য নয়।প্রায়শই শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা টানতে হয়। যেগুলো একটা ছিড়ে যায় পরিণতিতে পুড়িয়ে পেলতে হয়্। আবার অনেক সময় প্লাষ্টিকের মোড়ক থাকায় পরিবেশের জন্য প্লাষ্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব ও মোকাবেলা করতে হয়।উপরন্তু কাগজ তেরির কাচামাল হিসেবে গাছের উপর ও চাপ কমবে। আর এ ক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়াটি ব্যবহৃত হবে তা হল "ইলেকট্রনিক কাগজ"। স্টীলের একটি পাতকে আণবিক্ষণিক কোষের মাধ্যমে তড়িতায়িত করে লেখা ফুটিয়ে তোলা এই কাগজে আস্ত একটি উপন্যাস লুকিয়ে রাখা সম্ভব। দরকার মত পড়ে মুছে দিয়ে নতুন কিছু ভরেও নেয়া সম্ভব হবে।

২. অঙ্গারীভূত-অম্লজান (CO2) এর কবর

বৈশ্বিক উষ্ণতায়  সবচেয়ে দায়ী গ্রীনহাউস গ্যাস হল কার্বন-ডাই-অক্সাইড। ২০৩০ সালের মধ্যে বায়ুমন্ডলে নির্গত CO2 গ্যাসের পরিমাণ হবে প্রায় ৮০০০ মিলিয়ন মেট্রিকটন। কোন কোন বিশেষজ্ঞের মতে, CO2 এর এই নির্গমন রোধ করা অসম্ভব, তবে গ্যাসটি বায়ুমন্ডলে যাতে গমন না করতে পারে সে ব্যবস্থা করা যায়। একটি উপায় হতে পারে, অন্যান্য নির্গত গ্যাস থেকে একে পৃথক করে পরিত্যক্ত তৈলক্ষেত্র, লবনাক্ত জলাশয় ও পাথরে বন্দী করে ফেলা। পরিকল্পনা খুবই চমৎকার, তবে স্বল্পমেয়াদী সমাধান হিসেবে এটি বেশ ব্যয়বহুল এবং বিজ্ঞানীর এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত নন।

 

 ৩.বাসার  ছাদে বন বা ছাদবন:  


পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হিসেবে প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম ব্যবিলনের শুন্যোদ্যানের (hanging garden of Babylon) ধারণা নিয়ে চিন্তাভাবনা কেন এত দেরিতে শুরু হল তা অবাক ব্যপার। কিংবদন্তীতে বলা আছে, রাজা নেবুচাঁদনেজার (Nebuchadnezzar) মধ্য-এশিয়ার পার্বত্য এলাকা থেকে আগত তার এক স্ত্রীর মনোরঞ্জনের জন্য রাজপ্রাসাদের ছাদ, কার্নিশ, বারান্দা সবকিছু বাগানে ভরে ফেলেছিলেন। এই ধরনের বাগান তাপ শোষণ করে, বায়ুমন্ডল থেকে CO2 গ্রহণ করে ও O2 নির্গমন করে, ঝড়ের ক্ষতিকর পানিকে শোষণ করে, এবং বাসার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে গ্রীষ্মকালে অধিকতর কার্যকরী ও দীর্ঘমেয়াদি করে তোলে। সামগ্রিকভাবে, নগরে সৃষ্ট তাপ-দ্বীপ (heat island) কে প্রশমিত করতে এই বনায়ন বড় অবদান রাখতে পারে। রঙবেরঙের প্রজাপতি ও সুরেলা পাখি নগরারন্যে এসে বসাতে পারে গান বা শায়েরির জলসা।


৪. টারবাইনের মাধ্যমে ঢেউয়ের নিয়ন্ত্রণ


ভূপৃষ্ঠের ৭০ শতাংশের উপর এলাকাই সাগরে আবৃত। সাগরের জলরাশি মাঝে মাঝে উন্মাতাল হয়ে উঠে।বঙ্গোপসাগরের সুনীল জলরাশি যখন এইরকম ক্ষুব্ধ হবে, সাথে সাথে এর শক্তিকে ছুঁড়ে দিতে হবে টারবাইনের উপর, যা যান্ত্রিকশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করবে।
. সাগরের তাপশক্তির মাধ্যমে বিদ্যুত উৎপাদন।

পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় সৌরশক্তি সংগ্রাহক হচ্ছে সাগরের জলরাশি। সাগরগুলি প্রতিদিন ২৫০ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের সমতূল্য সৌরতাপ গ্রহণ করে। সমগ্র ইউএসএ সারা বছরে ব্যবহার করে ৭.৫ বিলিয়ন ব্যারেল। আর এর জন্য কত না নৃশংস অন্যায় যুদ্ধ। সৌরতাপের দরুণ সমূদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাপমাত্রা ও সমুদ্রতলদেশের নিম্নতাপমাত্রার পার্থক্য কাজে লাগিয়ে টারবাইন চালিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
৬. নতুন সৌরোজ্জ্বল ধারণা

সূর্যের শক্তি, যা ফোটন (photon) কণিকার আকারে ভূপৃষ্ঠকে আঘাত করে, কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ ও তাপে রূপান্তরিত করা যায়। সৌরসংগ্রাহক (solar collector) হিসেবে সৌরকোষ (solar cell) ও সৌরতাপ তাপধারক (solar thermal collector) বেশ সুপরিচিত এবং সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গবেষকরা এখন চাচ্ছেন দর্পন (mirror) ও উপবৃত্তাকার পাত্র (elliptical dishes) ব্যবহার করে আরো কার্যকরভাবে কিভাবে সৌরশক্তি জমা করা যায়।

৭. পরিবেশ বান্ধব হাইড্রোজেন জ্বালানী

জীবাশ্ম জ্বালানীর (fossil fuel) পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে উদজান (hydrogen) জ্বালানী বেশ প্রশংসনীয়। উদজানকে অম্লজানের (oxygen) সাথে যুক্ত করে পানি তৈরি করার প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা উদজান জ্বালানী কোষের (hydrogen fuel cell) মাধ্যমে ল্যাপটপ ও আরো কিছু ছোট ছোট যন্ত্রের বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছেন। কিছু কিছু যানবাহন উৎপাদনকারী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যে খুব শীঘ্রই এমন গাড়ি আসবে যা পানি ছাড়া অন্য কোন কিছু নির্গত করবে না।

৮. সমুদ্রের লবনাক্ত পানিকে মিঠা পানিতে রুপান্তর

জাতিসংঘের হিসেব মতে, এই শতকের মাঝামাঝি সময়ে পৃথিবীর বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষ পানীয় জলের অভাবে ভুগবে। সমুদ্রের পানি থেকে লবণ ও খনিজ পদার্থ দূর করে পানীয় জলের ব্যবস্থা করা যায়।

পরিবেশ বান্ধব পৃথিবীর জন্য ১০ টি বড় আবিষ্কার

 

প্রতিনিয়ত গ্রীন হাউজ গ্যাসের নির্গমনে বসবাসের উপযোগীতা হারাচ্ছে আমাদের সুজলা-সুফলা পৃথিবী । উন্নয়নের নামে উন্নত বিশ্ব প্রতিনিয়ত লক্ষ লক্ষ টন বিষাক্ত বর্জ্য ঢেলে দিচ্ছে পরিবেশে; আর তাই প্রতিদিনই পরিবেশ হয়ে উঠছে মানব কূলের বসবাসের অনুপোযোগী । দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ভারসাম্য । বিজ্ঞানীরা তাই এতদিন পর নজর দিয়েছেন পরিবেশবান্ধব পন্য ও যন্ত্রপাতি আবিস্কারে । সম্প্রতি এমন ১০ টি  পরিবেশবান্ধব আবিস্কারের খোজ দিয়েছে বিজ্ঞান সাময়িকী scienceray.com সায়েন্স রে থেকে অনুবাদ করেছেন নাজমুস সাদাত, সম্পাদনা করেছেন ফয়সল আকবর

শূণ্য-দূষণ যান
পপুলার মেকানিক ঘোষণা দিয়েছে যে, টাটা মটর ২০০৯ সালের শেষে বা ২০১০ সালের প্রথম দিকে প্রথম বায়ু চালিত গাড়ি তৈরী করবে । এর সর্বোচ্চ গতি ঘন্টায় ৯৬ মাইল এবং এর দাম হবে আনুমানিক ১৮ হাজার মার্কিন ডলার । একবার বায়ু কমপ্রেস করলে এটি সর্বোচ্চ ১ হাজার মাইল পর্যন্ত চলবে । ফলে এ যান থেকে পরিবেশ সকল প্রকার দূষণ মুক্ত থাকবে।

 

 


ইভানহো রিজার্ভার
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন যৌগগঠন ব্যাহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাজ্ঞেলসের পানি ও শক্তি কতৃপক্ষ সম্প্রতি তাদের পানি প্লান্টটি ৪ লক্ষ প্লাস্টিকের বল দিয়ে ঢেকে দিয়েছে। কারন হিসেবে তারা বলছে পানি বিশুদ্ধকরনের জন্য ব্যাবহৃত ক্লোরিন সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে ব্রোমাইডের সাথে বিক্রিয়া করে কার্সিনোজেন নামক বিষাক্ত যৌগ উৎপন্ন করে । যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর । উল্লেখ্য, এই পানির প্লান্টটির  উপর লস অ্যাজ্ঞেলসের প্রায় ৬ লক্ষ মানুষ নির্ভরশীল ।

 


টিভি রিমোর্ট কন্ট্রোল
MAKনামক একটি জাপানী ফার্ম এমন একটি টিভি রিমোর্ট কন্ট্রোল আবিষ্কার করেছে যা পরিবেশ বান্ধব এবং যা মানুষের আঙ্গুলের দ্বারা পরিচালিত হ্‌বে। একইসাথে এ  ডিভাইসটি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমাতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম । এই ডিভাইসের মাধ্যমে রিমোর্ট কন্ট্রোল ব্যবহারকারী ট্রিগার টানার মাধ্যমে টিভি চালু কিংবা বন্ধ করাসহ এর ভলিউম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে । এতে কোন ব্যাটারির লাগবেনা বলে কার্বনের ব্যাবহার কম হবে ।

 


পানিবিহীন ওয়াশিং মেশিন
লীডস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পোশাক পরিষ্কারের এমন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন যাতে শতকরা দুই ভাগেরও কম পানি ও শক্তি ব্যবহরের মাধ্যমে কাপড় পরিষ্কার করা সম্ভব হবে। Xeros নামে এই ওয়াশিং মেশিন সকল প্রকার ময়লা দুর করতে সক্ষম এবং এ মেশিনে পরিষ্কার হওয়া কাপড় প্রায় শুষ্ক অবস্থায় বাহির হয়। এটি  মাত্র এক কাপ পরিমান পানি দিয়ে প্রতিচক্র পোশাক পরিষ্কার শেষ করতে পারে।

গ্রীন টাওয়ার
ফস্টার এবং পার্টনারস আলোকে ব্যাবহারের জন্য সাইবেরিয়ায় এমন ২ টি স্থাপনার নকশা করেছেন বিজ্ঞানীরা যাকে বলছেন গ্রীন টাওয়ার । এটি নির্মিত হবে আলো শোষণকারী কাঁচ  দ্বারা যা শীতকালে বেশি আলো শোষণ করতে সক্ষম এবং  এমন টেকশই উপাদান দিয়ে গঠিত হবে যাতে নবায়ণযোগ্য শক্তির ব্যবহার সম্ভব ।


পরিবেশ বান্ধব নৌকা
জৈবজ্বালানি ব্যাতীত মানব চর্বি দিয়ে চলবে আগামী দিনের পরিবেশ বান্ধব নৌকা । দি গার্ডিয়ান এর মতে, এটি সম্পূর্ণ কার্বনমুক্ত । নিউজিল্যান্ডের অধিবাসী পিট বেথান নিজের শরীরের ১০০ মি.লি. চর্বি দিয়ে এটি চালিয়ে দেখিয়েছেন । মানব চর্বির পাশাপাশি এটি জৈবজ্বালানি দিয়েও চলবে ।

 

 

 

পরিবেশ বান্ধব ল্যাপটপ
আগামী বছর থেকে এমন এক ধরণের ল্যাপটপ আসছে যেটি পরিবেশ বান্ধব । যার উপরি কাঠামো  বাশঁ জাতীয় উপাদান দ্বারা আবৃত থাকবে এবং এর সকল অর্ন্তনিহিত প্লাস্টিক পূনব্যাবহারযোগ্য । এছাড়া এটির উপাদানে কোন রং, ইলেক্ট্রপ্লেটিং এর ব্যবহার হবে না ।

 

 

সৌরচালিত পানির হিটার
উইলিয়াম জে.ওয়েবার  মাদার আর্থ নিউজ নামক একটি প্রবন্ধে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোক নিজের প্রস্তুকৃত  সৌরচালিত পানির হিটরের উপাদান, তৈরী পদ্ধতি, খরচ ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন।

 

 

 

 

 

 

পরিবেশ বান্ধব শিকাগো সেতু
শিকাগো শহরকে সবুজ নগরীতে পরিণত করতে অনেক প্রকল্প চালু হচ্ছে । এ শহরের মানরো হারবারের পরিবেশ বান্ধব সেতুটি হবে অধিবাসী ও দর্শনার্থীদের জন্য বিনোদনের একটি স্থান । এটি দুই মাইল লম্বা এবং এটি শহরের পরস্পর বিপরীতমুখী দুটি  প্রান্তকে একত্রিত করেছে ।

 

 

 

 

ভাসমান পরিবেশ বান্ধব দ্বীপ লিলিপ্যাড
বৈশ্বিক উষ্ণায়ণের ফলে প্রতিনিয়ত সমুদ্র স্তর উঁচু হচ্ছে  । ২১০০ সালে এর সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা হবে ২০-৯০ সে:মি: পর্যন্ত বাড়বে । সে সময় পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ পানিতে তলিয়ে যাবে । তখন মানুষের বাস করতে হবে ভাসমান দ্বীপে । স্থপতি ভিন্সেন্ট ক্যালবাট পরিবেশ বান্ধব ঐ দ্বীপের নাম দিয়েছেন লিলিপ্যাড । যেখানে বিত্তশালী ৫০ হাজার মানুষের জায়গা হবে ।
এ ধরনের পরিবেশবান্ধব ও অবিশ্বাস্য আবিষ্কারগুলো  পরিবেশ পরিবর্তনের মাঝে আমাদের বাচিঁয়ে রাখবে।

Source: http://scienceray.com/technology/applied-science/10-fantastic-eco-friendly-inventions/10 Fantastic Eco-friendly Inventions