হাসান শাহরিয়ার
জীববৈচিত্র্যপূর্ণ একটি পৃথিবীই আমাদের স্বপ্ন-এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ৫ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হয়েছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস।
গত শতকের ষাটের দশকে পরিবেশ নিয়ে বিজ্ঞানীরা চিন্তা-ভাবনা শুরু করেন। অবশেষে ১৯৭২ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতিসঙ্ঘের সাধারন পরিষদের ২১১ তম সভায় ৫ জুন প্রতিবছর বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করার সিন্ধান্ত নেয়া হয়। সেই থেকেই প্রতিবছর বিশ্বে নিয়মিত পরিবেশ দিবস পালিত হয়ে আসছে।
বিশ্বের বেশ কিছু দেশে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ব্যাপক প্রাণহানির কারনে কারনে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক দিবস পালন করায় পরিবেশ দিবস ২০১০ উপলক্ষে সরকারিভাবে রাজধানীতে গৃহীত সকল কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।
এই দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হলে ও তা পালিত হয়নি।
তবে ৪ জুন পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, কার্বন সৃষ্ট জ্বালানির ব্যবহার অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ও মানব নিরাপত্তা আজ হুমকির সম্মুখীন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে বলেন, আমাদের জীবন-জীবিকা, সমাজ-সংস্কৃতি আবর্তিত হচ্ছে জীববৈচিত্র্যকে কেন্দ্র করে। অধিক জনসংখ্যার চাপ, বন নিধন, জলাভূমি ভরাট, কৃষিতে রাসায়নিক উপকরণের যথেচ্ছ ব্যবহার, প্রাকৃতিক সম্পদের মাত্রাতিরিক্ত আহরণ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইত্যাদির কারণে আজ দেশের জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করছে। তাই পরিবেশ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। |