জাফর সাদেক শিবলী
আমারহেলথ (১৩জুলাই, মঙ্গলবার): রাজধানীসহ সারাদেশে পলিথিনের ব্যবহার মাত্রতিরিক্ত বেড়ে যাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পলিথিন ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান চালছে দীর্ঘদিন ধরে। তবুও এর ব্যবহার বন্ধ যাচ্ছে না।
অন্যদকে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযোগ পর্যাপ্ত লোকবলের অভাব। যার কারনে অভিযান নিয়মিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পলিথিনের উৎপাদন ও ব্যবহার উভয়ই সমান তালে চলছে।
প্রায় প্রতিদিনই ভ্রাম্যমান আদালতের হাতে ধরা পড়ছে পলিথিন তৈরীর বিভিন্ন উপাদান। সবশেষ সোমবার রাজধানীর লালবাগে রাজনারায়ণধর রোডে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১১ মেট্রিক টন পলিদানা ও পলিথিন শপিং ব্যাগ তৈরির পলিরোল জব্দ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিবেচনা করে ২০০২ সালে পলিথিনের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করে সরকার।
২০০২ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে বলা আছে, পলিথিন ব্যাগ বিক্রয়, প্রদর্শন, মজুদ ও বাণিজ্যিকভাবে বিতরণ করা যাবে না। কিন্তু এর পরও বিভিন্ন ব্যবসায়ী পলিথিন ব্যাগ বিক্রি ও পণ্য পরিবেশনে ব্যবহার করছেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ার পর ২০০৩ সালে অক্টোবর থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আসছে।
২০০৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত ৮০টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের অভিযোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৩শ’ ৬৯টি মামলা দায়ের করা হয়। এ সময় আদায় করা হয় ১৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। পরবর্তীতে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের কারণে সাময়িকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বন্ধ রাখতে হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার অর্ডিন্যান্স জারি হওয়ার পর পুনরায় গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে এ অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানে এ বছর মে মাস পর্যন্ত মাত্র ১৪টি আদালত পরিচালনা করা হয়। মামলা দায়ের করা হয়েছে ১৬৮টি প্রতিষ্ঠানের বিরম্নদ্ধে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সুকুমার বিশ্বাস বলেন, লোকবলের অভাবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না। পলিথিনের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার জন্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে মামলা ও জরিমানার পাশাপাশি প্রতিটি বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির কাছে পলিথিন ব্যবহার না করার আহবান জানানো হচ্ছে।
|