জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

শুরু হলো বহুল প্রত্যাশিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন

এইচ এম দিদার

‌‌‌"বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ঠেকাতে একটি সিদ্ধান্তে একমত হওয়া যাবে"- এ প্রত্যাশা নিয়ে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে শুরু হয়েছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। আলোচনায় বসেছেন বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের ১৯২টি দেশের প্রতিনিধি। তাদের প্রত্যাশা বিশ্ববাসীর আস্থা অর্জন। উল্লেখ্য, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর পাশাপাশি দরিদ্র দেশগুলো এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের তহবিল গঠনের নিয়েও আলোচনা হবে এ সম্মেলনে।
১২ দিনব্যাপী এ সম্মেলন চলবে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এতে যোগ দেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যোগ দেবেন সম্মেলনের শেষ দিন। বিশ্বের প্রায় ১০৫ জন নেতাসহ বিভিন্ন দেশের ১৫ হাজার প্রতিনিধি যোগ দিচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ এ সম্মেলনে।
৭ ডিসেম্বর উদ্বোধনী অধিবেশনে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী লারস লোকে রাসমুসেন এবং জাতিসংঘ পরিবেশ প্যানেল বিশেষজ্ঞদের প্রধান রাজেন্দ্র পাচুরি বক্তব্য রাখেন।
প্রসঙ্গত, কোপেনহেগেনের এ সম্মেলনই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জলবায়ু সম্মেলন। তাই বিশ্ববাসীর প্রত্যাশাও অনেক। এর আগে ১৯৯৭ সালে কিয়োটো চুক্তির সময় বিভিন্ন দেশের পরিবেশমন্ত্রীরা অংশ নিয়েছিলেন। ঐ সনদের মেয়াদ আগামী ২০১২ সালে শেষ হচ্ছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী কার্বন নির্গমন আরো কমানোর বিষয়ই এবারের সম্মেলনের মূল আলোচ্য।

জাতিসংঘ জলবায়ু বিষয়ক সচিবালয়ের প্রধান ইভো ডা. বোয়ার গত ৬ ডিসেম্বর বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে কোপেনহেগেন একটি 'টার্নিং পয়েন্টে' রূপান্তরিত হয়েছে"।
সবচেয়ে বেশি কার্বন নিমর্গনকারী দেশ চীন, ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশের নেতারা সম্মেলনে যোগ দিয়ে কার্বন নিগর্মন কমানোর সিদ্ধান্তে একমত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

গত দুই বছর ধরে আলোচনা চলায় এ নিয়ে প্রত্যাশাও বেড়েছে। এছাড়া কার্বন নিগর্মন কমানো নিয়ে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে, তাও লাঘব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ওদিকে, সম্মেলনকে সামনে রেখে ২ দিন আগে রোববার দক্ষিণ আফ্রিকা নতুন একটি ঘোষণা দিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, ধনী দেশগুলো যদি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয় তবে ২০২০ সালের মধ্যে তারা কার্বন নির্গমন ৩৪ ভাগ কমিয়ে আনবে।
সম্মেলনের একদিন আগে বিশ্বের ৫৬টি সংবাদপত্র সোমবার এক যৌথ সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে।
http://en.cop15.dk/