
|
||||||||||||||||||||||||
পুষ্টিহীনতা ও অসুস্থতায় ভূগছে ঢাবি’র আবাসিক শিক্ষার্থীরাজাফর সাদেক শিবলী |
||||||||||||||||||||||||
সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে দু’তিনটি পরোটা ও ভাজি-ডিম নয়তো দু’পিস ব্রেড, ডিম ও কল। দুপুর বেলা এক দেড় প্লেট ভাত সাথে একপিস গরু অথবা মুরগী অথবা মাছ। রাতের বেলায়ও প্রায় দুপুরের মতই একই খাবার। তবে রাতে অনেকেই ভাত না খেয়ে নুডুলস, পরোটা-ভাজি, খিচুড়ি-ডিম বা দই-চিড়া খেয়ে নেয়।
এ হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল গুলোর ছাত্র-ছাত্রীদের খাওয়ার দৈনন্দিন রুটিন। এর বাহিরে মাঝে মধ্যে ক্লাসের ফাঁকে চা বা বাদাম খাওয়া পর্যন-ই খাবারের সর্বোচ্চ সীমা। আবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা মেসে খায় তাঁদের অবস্থা আরো করুন। খাবারের দুরাবস্থা নিয়ে মেস ম্যানেজার ও মেস কর্তৃপক্ষের উপর তারা সবসময়ই অসন্তুষ্ট থাকেন। বেশিরভাগ সময়ই তরকারির আইটেম একটা হওয়ায় অপছন্দের আইটেম দিয়ে অনেকে খায় না বা খুব কম খায়। পুষ্টি বিশেষজ্ঞের মতে একজন শিক্ষার্থীর প্রতিদিন ২৫০০ কিলো ক্যালরি খাবার প্রয়োজন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সেই তুলনায় অনেক কম খাবার নিয়ে থাকে। পরিসংখ্যানে দেখা যায় দৈনন্দিন গড়ে শিক্ষার্থীরা ১৪’শ বা ১৫’শ কিলো ক্যালরি খাবার গ্রহণ করে থাকে। খাবারের এই অপর্যাপ্ততার কারনে অনেক শিক্ষার্থীই ওজন হ্রাস, চর্মরোগ, রক্তশূণ্যতাসহ বেশ কয়টি রোগে ভূগছে বলে জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীফ মেডিকেল অফিসার ডা.আব্দুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবার দাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীরা মোটেও তুষ্ট নয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, আবাসিক কেন্টিন ও ডাইনিংগুলোর খাবারের মান নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে ও ভবিষ্যতেও হবে কিন্তু খাবারের মান সর্বোচ্চ উনিশ বিশ হবে। তেমন কোন পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু ভবিষ্যতের এই কর্ণধারদের এই খাওয়া দাওয়া তাঁদের সু-স্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত কিনা বা ভবিষ্যতে তাঁদের কাছ থেকে দেশ কতটুকু উৎপাদনশীলতা আশা করতে পারে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান অনুষদের পরিচালক ও বিশিষ্ট পুষ্টি বিজ্ঞানী অধ্যাপক সাগরময় বড়ুয়া বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক হলের কেন্টিন ও মেসগুলোতে পরিমানমত ভাত, ডাল ও মাছ-মাংস দেয়া দেয়া হয় তা শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও সু-স্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট নয়। হলের খাবার ব্যবস্থায় আমিষ ও শর্করা যুক্ত খাবার পরিবেশনের সাথে প্রচুর পরিমানে ‘ভিটামিন-এ’ যুক্ত খাবার যেমন-লালশাক, গাজর, টমেটো, পালংশাক ও মিষ্টিকুমড়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সতেরটি হলের শিক্ষার্থীদের যেহেতু প্রশাসনের ভাল খাবার দাবার বা ফলমূল সরবরাহ করা সম্ভব নয়। এজন্য তাঁদের উচিত সু-স্বাস্থ্য রক্ষায় হলের নিয়মিত খাবারের পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে সপ্তাহে দু’একদিন ফল মূল কিনে খাওয়া। যা তাঁদের পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা পূরণ করবে। |
Copyright © 2009 |Amarhealth|