জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

পুষ্টিহীনতা ও অসুস্থতায় ভূগছে ঢাবি’র আবাসিক শিক্ষার্থীরা

জাফর সাদেক শিবলী

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে দু’তিনটি পরোটা ও ভাজি-ডিম নয়তো দু’পিস ব্রেড, ডিম ও কল। দুপুর বেলা এক দেড় প্লেট ভাত সাথে একপিস গরু অথবা মুরগী অথবা মাছ। রাতের বেলায়ও প্রায় দুপুরের মতই একই খাবার। তবে রাতে অনেকেই ভাত না খেয়ে নুডুলস, পরোটা-ভাজি, খিচুড়ি-ডিম বা দই-চিড়া খেয়ে নেয়।
ঢাবি’র আবাসিক হলে শিৰার্থীদের খাদ্যের গড় পুষ্টিগুন:

খাদ্য উপাদান

প্রয়োজনীয় পরিমান

প্রাপ্ত পরিমান

প্রাপ্ত কিলোক্যালরী

শর্করা

৪০০ গ্রাম

৩০০ গ্রাম

৮০০

আমিষ

৬০ গ্রাম

৩০ গ্রাম

৩৫০

স্নেহ/চর্বি

৬০গ্রাম

২৫গ্রাম

২৫০

অন্যান্য খাদ্য উপাদান

২৫গ্রাম

১০গ্রাম

১০০

সর্বমোট গৃহীত ক্যালরী

১৫০০

 

 

 

এ হল  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল গুলোর ছাত্র-ছাত্রীদের খাওয়ার দৈনন্দিন রুটিন। এর বাহিরে মাঝে মধ্যে ক্লাসের ফাঁকে চা বা বাদাম খাওয়া পর্যন-ই খাবারের সর্বোচ্চ সীমা। আবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা মেসে খায় তাঁদের অবস্থা আরো করুন। খাবারের দুরাবস্থা নিয়ে মেস ম্যানেজার ও মেস কর্তৃপক্ষের উপর তারা সবসময়ই অসন্তুষ্ট থাকেন। বেশিরভাগ সময়ই তরকারির আইটেম একটা হওয়ায় অপছন্দের আইটেম দিয়ে অনেকে খায় না বা খুব কম খায়। পুষ্টি বিশেষজ্ঞের মতে একজন শিক্ষার্থীর প্রতিদিন ২৫০০ কিলো ক্যালরি খাবার প্রয়োজন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সেই তুলনায় অনেক কম খাবার নিয়ে থাকে। পরিসংখ্যানে দেখা যায় দৈনন্দিন গড়ে শিক্ষার্থীরা ১৪’শ বা ১৫’শ কিলো ক্যালরি খাবার গ্রহণ করে থাকে। খাবারের এই অপর্যাপ্ততার কারনে অনেক শিক্ষার্থীই ওজন হ্রাস, চর্মরোগ, রক্তশূণ্যতাসহ বেশ কয়টি রোগে ভূগছে বলে জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীফ মেডিকেল অফিসার ডা.আব্দুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবার দাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীরা মোটেও তুষ্ট নয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, আবাসিক কেন্টিন ও ডাইনিংগুলোর খাবারের মান নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে ও ভবিষ্যতেও হবে কিন্তু খাবারের মান সর্বোচ্চ উনিশ বিশ হবে। তেমন কোন পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু ভবিষ্যতের এই কর্ণধারদের এই খাওয়া দাওয়া তাঁদের সু-স্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত কিনা বা ভবিষ্যতে তাঁদের কাছ থেকে দেশ কতটুকু উৎপাদনশীলতা আশা করতে পারে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান অনুষদের পরিচালক ও বিশিষ্ট পুষ্টি বিজ্ঞানী অধ্যাপক সাগরময় বড়ুয়া বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক হলের কেন্টিন ও মেসগুলোতে পরিমানমত ভাত, ডাল ও মাছ-মাংস দেয়া দেয়া হয় তা শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও সু-স্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট নয়। হলের খাবার ব্যবস্থায় আমিষ ও শর্করা যুক্ত খাবার পরিবেশনের সাথে প্রচুর পরিমানে ‘ভিটামিন-এ’ যুক্ত খাবার যেমন-লালশাক, গাজর, টমেটো, পালংশাক ও মিষ্টিকুমড়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সতেরটি হলের শিক্ষার্থীদের যেহেতু প্রশাসনের ভাল খাবার দাবার বা ফলমূল সরবরাহ করা সম্ভব নয়। এজন্য তাঁদের উচিত সু-স্বাস্থ্য রক্ষায় হলের নিয়মিত খাবারের পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে সপ্তাহে দু’একদিন ফল মূল কিনে খাওয়া। যা তাঁদের পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা পূরণ করবে।
প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোও ইদানিং তাঁদের ছাত্র অধিকার বিষয়ক কার্যক্রমে খুব একটা তৎপরতা না। তবে ছাত্রছাত্রীদের খাবারের মান উন্নয়নে কঠোর কর্মসূচী নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানালেন  সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি মলয় সরকার, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব মন্ডলসহ প্রগতিশীল বাম সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
ছাত্রদের খাবারের বর্তমান অবস্থা ও সু-স্বাস্থ্য রক্ষায় পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার সরবকরাহ প্রসঙ্গে জসীম উদ্‌দীন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য কেন্টিন বা ডাইনিংগুলোতে শাকসবজি বা গাজর এসবের ব্যবস্থা করা যায়। কিন্তু মাছ বা মাংসের পরিমান বাড়াতে হলে আলাদা বাজেট প্রয়োজন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশনকে আগে ভাবতে হবে। শামছুন্নাহার হলের প্রাধ্যক্ষ নাজমা শাহীন বলেন, ছাত্রীদের কেন্টিন ও ডাইনিংগুলোতে ভালো মানের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের জন্য আমরা আন্তরিক। কিন্তু স্বল্প সময়ের মধ্যে বর্তমান মান থেকে খুব বেশি পরিবর্তন সম্ভব নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি খাবারের মান, খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের অভিমত অনুযায়ী আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবারের পুষ্টির মান ও সু-স্বাস্থ্য রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগামীদিনগুলোতে কি ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে এ ব্যাপারে উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক জানান, ‘আবাসিক হলগুলোর ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টির গুণগতমান রক্ষায় এবারের বিশ্ববিদ্যালয় বাজেটে মোটামোটি ভাল একটা বাজেট রাখা হয়েছে। হল কর্তৃপক্ষের সু-ব্যবস্থাপণায় আশা করছি কেন্টিন ও ডাইনিংগুলোতে মানসম্পন্ন খাবার সরবরাহ করা হবে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৯-১০অর্থবছরের বাজেটে এই সংশিষ্ট কোন বরাদ্দের অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়নি।
ই-মেইল: : news_amarhealth@yahoo.com