জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

যশোরে আর্সেনিক দূষণে ৭ বছরে মারা গেছে ২২, আক্রান্ত ১৬১০

আমার হেলথ (১৪ জুলাই, বুধবার): যশোরের চৌগাছা উপজেলাকে দিন দিন গ্রাস করছে আর্সেনিকোসিস রোগ।  নীরব ঘাতক এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ, পশু, পাখি।  উৎপাদিত শাক-সবজিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি ধরা পড়ছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য কার্যালয় ও জাপান ভিত্তিক দাতা সংস্থা জাইকা সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছা উপজেলায় আর্সেনিক আক্রান্ত সংখ্যা ১ হাজার ৪০০। তাছাড়া প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। উপজেলার মাড়ুয়া, কয়ারপাড়া ও বলিদাপাড়া গ্রামে আর্সেনিক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গত ৭ বছরে উপজেলায় আর্সেনিক আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২২ জন। তার মধ্যে মাড়ুয়া গ্রামেই ১৮ জন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই গ্রামের একই পরিবারের ৩ জন আর্সেনিক রোগে মারা গেছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হলেও বিশুদ্ধ পানির অভাবে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। 
২০০৫ সালে চৌগাছা হাসপাতালে আর্সেনিক রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়। এ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, চৌগাছা হাসপাতালে রেজিস্ট্রিকৃত আর্সেনিক আক্রান্ত রোগী রয়েছে ৯২৬ জন। সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৬১০ জন। তালিকা অনুযায়ী মারা গেছে ২২ জন। তবে এ সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। কারণ জনগণের অসচেতনতার কারণে রোগী বা মৃত ব্যক্তির নাম রেজিস্ট্রিভুক্ত হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মাড়ুয়া, নারায়ণপুর, জগদীশপুর, পাতিবিলা, ধুলিয়ানি, সিংহঝুলি, জগন্নাথপুর, হাকিমপুর, কয়ারপাড়া, মাজালী, বলিদাপাড়া, সুখপুকুরিয়া, তেঘোরি, বেড়গোবিন্দপুর, কুষ্টিয়া, রামভদ্রপুর, ফুলসারা, চৌগাছা গ্রামসহ অধিকাংশ গ্রামের নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। উপজেলার ৩০ হাজার নলকূপের মধ্যে ১৬ হাজারে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক শনাক্ত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম সাখাওয়াত জানান, ইতিমধ্যে পাতকুয়া, ভাগওয়েল ও পিএসএফ নির্মাণের মাধ্যমে জনগণের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যে সমস্ত লোক আর্সেনিকে আক্রান্ত তাদের তালিকা তৈরি করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফ্রি চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যে ৮০ হাজার টাকা এডিবি তহবিল থেকে দেয়া হয়েছে।