জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

‘জলবায়ু-ইন্সুরেন্স’ ব্যবসা সম্ভাবনাময় খাত হতে পারে- আইনুন নিশাত

আমারহেলথ (১৩মার্চ, রবিবার): জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামীতে 'জলবায়ু-ইন্সুরেন্স' ব্যবসা সম্ভাবনাময় খাত হতে পারে। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি-পরিবার ও সমাজের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেয়া সম্ভব। শুধু তাই নয়, জাতিসংঘের মাধ্যমে ইতিমধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরুও হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্তরা যেমন পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ পাবে, তেমনি দেশও অনেকটা চাপমুক্ত হওয়ার মাধ্যমে লাভবান হবে।
শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এক ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত এ কথা বলেন। 
তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোতে শুরু হয়েছে। প্রতি বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের পর ব্যক্তি নির্বিশেষে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন করে ওই ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে। এ সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেগোশিয়েশন প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি তাদের আহ্বান জানান।
চেম্বারের মতিঝিলের প্রধান কার্যালয়ে 'বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা' শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর গ্লোবাল চেইঞ্জের নির্বাহি পরিচালক ড. আহসান উদ্দিন আহমেদ। চেম্বার সভাপতি আসিফ ইবরাহিমের সভাপতিত্বে এতে সূচনা বক্তব্য রাখেন অক্সফাম জিবির ম্যানেজার জিয়াউল হক মুক্তা। চেম্বার নেতা টিআইএম নুরুল কবীর, আবু হোরায়রা, আবদুস সালাম, নাসির হোসাইন, হোসাইন এ সিকদার, খায়রুল মজিদ মাহমুদ, আবসার করিম চৌধুরী প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।
ড. আইনুন নিশাত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বব্যাপী 'মিটিগেশন' ও 'অ্যাডাপ্টেশন' নামে দু'টি বিষয় রয়েছে। অ্যাডাপ্টেশন বা অভিযোজন প্রক্রিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেসব সমস্যার উদ্ভব ঘটবে তার বিরুদ্ধে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা অর্জনের বিষয় রয়েছে। এরমধ্যে খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলা ও আবাসস্থল রক্ষায় প্রস্তুতি, লবণসহিষ্ণু ফসল উদ্ভাবন ও আবাদ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, সুপেয় পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাসহ নানা বিষয় রয়েছে। ১০০মিলিমিটার বৃষ্টিতেও এখন ঢাকা শহর ডুবে যায়।
ড. আহসানউদ্দিন বলেন, শুধু ইন্সুরেন্স নয়, ব্যাংকিংও আগামীতে একটি সম্ভাবনা খাত হিসেবে বেরিয়ে আসতে পারে। জিয়াউল হক মুক্তা জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ব্যবসায়ীদের নানাভাবে ভূমিকা রাখার কথা উল্লেখ করেন।
সভাপতি আসিফ ইবরাহিম বলেন, সমুদ্রের পানির উচ্চতা এক মিটার বাড়লে ১ কোটি ৩০ লাখ লোক গৃহহীন হবে। ১৬ ভাগ ধান উৎপাদন হ্রাস পাবে। এর ফলে খাদ্য ঘাটতি অনিবার্যভাবে উপস্থিত হবে। তিনি বলেন, গ্রীণ হাউজ গ্যাস নির্গমনে আমরা সহনীয় মাত্রারও অনেক নীচে অবস্থান করছি। অথচ সবচেয়ে বেশি বিপদাপন্ন ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছি আমরাই। ১৯০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত একশ' বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দেশ ও জনগণের।