চীন, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ভারত ২০১০ সালের জুনের মধ্যে বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তি চূড়ান্ত করতে চায়। কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনের জন্য তৈরি করা একটি যৌথ খসড়ায় এ প্রস্তাব রয়েছে। নতুন একটি জলবায়ু চুক্তির রূপরেখার ব্যাপারে একমত হওয়ার চেষ্টায় ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে আলোচনায় বসেছেন ১৯২ দেশের প্রতিনিধিরা। বিশ্বনেতারা এতে যোগ দেবেন সম্মেলনের শেষ দিন ১৮ ডিসেম্বর।
বিশ্বনেতাদের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে জলবায়ু চুক্তিতে উপনীত হওয়া নিয়ে আশার সঞ্চার হলেও আগামী বছরের জন্য পুরোপুরি আইনগত একটি চুক্তিতে রাজি হওয়ার সময়ও ফুরিয়ে এসেছে। কোপেনহেগেন এখন কেবল একটি 'রাজনৈতিকভাবে বাধ্যবাধকতামূলক' বিষয়বস্তুতে একমত হতে পারে।
আইনগত বিষয়বস্তুতে আলোচনা শেষ করার করার জন্য আগামী বছর জুনকেই লক্ষ্য ধরে এগোনোর পক্ষপাতি বড় ৪ উদীয়মান অর্থনীতির দেশ- চীন, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারত। এই দেশগুলো বিশ্বে ৩০ শতাংশ গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের জন্য দায়ী ।
এর খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আলোচক দল ২০১০ সালের জুনে এর কাজ শেষ করবে এবং এর ফলাফল সম্মেলনে পেশ করবে। কোপেনহেগেন বৈঠকের নতুন করে শুরু হওয়া অধিবেশনে তারা এটি করবে ।
খসড়ায় বিশ্ব উষ্ণায়ন ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না রাখার বিজ্ঞানসম্মত লক্ষ্যমাত্রাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।
তবে ২০২০ সালের মধ্যে ধনী দেশগুলোর কতদূর পর্যন্ত গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন কমানো উচিত তা এতে সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন রোধের লড়াইয়ে এবং গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন কমানোর প্রস্তুতিতে ৪ দেশ শিল্পোন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে কত অর্থ চায় তাও এতে উল্লেখ করা হয়নি।
চীন এবং ভারত ২০২০ সালের মধ্যে ধনী দেশগুলোর কার্বন নির্গমন অন্ততপক্ষে ৪০ শতাংশ কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলো এ দাবি ছেড়ে দিয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে ভারতের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত শ্যাম শরণ বলেন, চীন এবং জি-৭৭-এর কিছু দেশ আছে যারা আরো বেশি হারে কার্বন নির্গমন কমানোর দাবি করেছে। তিনি বলেন, ছোট দ্বীপ দেশগুলোর জোট আছে যারা কার্বন নির্গমন ৪০ শতাংশ নয়, অন্ততপক্ষে ৪৫ শতাংশ কমানোর দাবি করছে। তাই এটি নিয়ে আরো আলোচনা করার ব্যাপার আছে। |