জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো শীঘ্রই ফান্ড পাচ্ছে

আমারহেলথ (১৫ জানুয়ারী, শনিবার): গত নভেম্বরের কানকুনে আন্তর্জাতিক জলবায়ু বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অংশগ্রহনকারী সকল দেশ তাতে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল। এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করার জন্য একটি তহবিলও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। খসড়া দলিলে কার্বন নির্গমন কমানোর কথা বলা হয়েছে, কিন্তু দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি পূরণে কোন কার্যসাধন প্রণালী ধার্য করা যায়নি।
গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং ২০২০ সালের মধ্যে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার দরিদ্র দেশগুলোকে, যে সব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের প্রদানের ইচ্ছা পোষণ করা হয়েছে এবং সেই সব দেশের ধীরগতির কার্বন নির্গমন উন্নয়নে সহায়তা করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত মানবজাতিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার জন্য ২০২০ সাল অনেক দেরি বলে প্রতীয়মান হতে পারে।
গবেষণাকারীরা অনুমান করছেন, যদি বিশ্ব উষ্ণতা ধীর করার জন্য জোরালো কার্যক্রম নেয়া না হয় তাহলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ মিলিয়ন জনসংখ্যা জলবায়ু পরিবর্তন কর্তৃক মরুকরণের শিকার হবে এবং অতিরিক্ত আবহাওয়া বিপর্যয়ের জন্য প্রতিবছর ১ মিলিয়ন জনসংখ্যা মৃত্যুবরণ করবে। বিশ্বে জলবায়ুর পরিবর্তন হিমালয় অঞ্চলের জন্যও উঁচু পর্বত থেকে আসা পানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ার কারণে মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহ, বিশেষত বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে শুরু করেছে। যেমন বার্ষিক বন্যা, সাইক্লোন, অনাবৃষ্টি ইত্যাদি। তা ছাড়াও জার্মান ওয়াচ গ্লোবাল ক্লাইমেট রিঙ্ ইনডেঙ্ (সিআরআই) ২০১১ প্রতিবেদন অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম।
বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের ট্র্যাজেডিস্বরূপ 'পোস্টার চাইল্ড' হিসাবে বিবেচনা করে। এ অঞ্চলের ভৌগোলিক এবং প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে মারাত্মক বন্যা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব বেশি দৃষ্ট হয়, অনাগত বছরগুলোতে এর প্রভাব আরও বাড়বে। কাজেই বাংলাদেশ গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডের একটি বড় অংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়ার জন্য অবশ্যই কাজ করবে, যাতে মানুষ কর্তৃক সৃষ্ট বিপর্যয় থেকে দেশ এবং জনগণকে রক্ষার প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন করতে পারে।