জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে জনদূর্ভোগ ও যানজট বৃদ্ধি করবে

নাজিবুল্লাহ (৬ সেপ্টেম্বর, সোমবার): এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হলে যাতায়াত ব্যবস্থায় মহাসঙ্কট সৃষ্টি হবে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবেশবীদরা। ৬ সেপ্টেম্বর, সোমবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসকাবের ভিআইপি লাউঞ্জে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউটি অব প্লানার্স (বিআইপি) এর যৌথ উদ্যোগে “ যাতায়াত ব্যবস্থায় মহাসঙ্কট আসন্ন: সমাধানে বিকল্প রূপরেখা” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

তারা বলেন, ঢাকায় ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২১ কিমি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে মূলত প্রাইভেট গাড়ি ভিত্তিক অবকাঠামো হওয়ায় সাধারণ মানুষের কোন উপকারে আসবে না। ঢাকায় প্রাইভেট গাড়ীর মালিকানা ২ শতাংশের এবং এতে ৫% ট্রিপ চলাচলের ব্যবহার হয়, তাতেই ঢাকা শহরে যাতায়াত সঙ্কট প্রকট আকার ধারন করেছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হলে যাতায়াত ব্যবস্থায় মহাসঙ্কট সৃষ্টি হবে। তাই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিবর্তে জনস্বার্থে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে সরকারকে পদপে নিতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এর চেয়ারম্যান অবু নাসের খান এর সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নীতি বিশ্লেষক সৈয়দ মাহবুবুল আলম। নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্স (বিআইপি) এর সভাপতি অধ্যাপক সারোয়ার জাহান, সহ-সভাপতি মোঃ শওকত আলী খান, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মনজুরুল আহসান খান, তেল-গ্যাস-বন্দর-বিদ্যূৎ রা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর মহিদুল হক খান এবং সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজ এর  পরিচালক নূরুল ইসলাম নাজেম।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, রেল, বাস, হাঁটা, সাইকেল, রিকশাসহ গণপরিবহন ব্যবস্থাকে কার্যকর করা ও প্রাইভেট গাড়ী নিয়ন্ত্রণ করা, নগরে মিশ্র এলাকা গড়ে তোলা এবং দেশের অন্যান্য শহরে পর্যাপ্ত সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে যানজট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। কিন্তু একটি বিশেষ গোষ্ঠী ব্যবসায়িক স্বার্থে বিভ্রান্ত তথ্য দিয়ে সরকারকে বিশাল অঙ্কের জনস্বার্থ বিরোধী প্রকল্প গ্রহণে উৎসাহী করছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসের জন্য দেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রায় আড়াই বছরের স্বাস্থ্য বাজেটের সমান অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক। এই অর্থ ব্যয়ে ঢাকা শহরে ৪০০ কিমি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) নেটওয়ার্কসহ হাঁটা, সাইকেল ও রিকশাসহ অন্যান্য গণপরিবহনের সমন্বয়ে কার্যকর যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। যা যানজট নিরসনে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে ভূমিকা রাখবে।

বক্তারা আরো বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে রেলের জায়গার উপর দিয়ে হবে বলে রেলের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্প দিয়ে গাড়ি ওঠা-নামা এবং টোল আদায়ের স্থানে ভীষণ যানজট তৈরি করবে। এই অবকাঠামো নিচের সড়কের ৫০ শতাংশ জায়গা নষ্ট এবং গণপরিবহনে চলাচলকারী এবং পথচারীদের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে। সর্বোপরি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রাইভেট গাড়ি বৃদ্ধির সাথে সাথে দূষণ, জ্বালানী নির্ভরতা, দূর্ঘটনা, যাতায়াত খরচ এবং শহরের তাপামাত্রা বৃদ্ধি করবে। যানজট সমস্যা সমাধানে ইতিপূর্বে অনেক পদপে গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু যানজট কমেনি, বরং যানজট ও জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে নানা পদপে গ্রহণ করা হলেও, প্রাইভেট গাড়ী নিয়ন্ত্রণ কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি, বরং প্রতিটি কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাইভেট গাড়ীর সুবিধা বৃদ্ধি এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে। নতুন যে কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করার পূর্বে পূর্ববর্তী পরিকল্পনাগুলো কেন ব্যর্থ হয়েছে তা যথার্থ ও নিরপে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।