জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

ইন্টারনেটও পরিবেশ দূষণ করতে পারে

নাজিবুল্লাহ

আইটি সেক্টরে কার্বন ফুটপ্রিন্ট বা পরিবেশ দূষণের হার বের করা কঠিন। ওয়েবের কারণে কতোটা কার্বন ফুটপ্রিন্ট বা পরিবেশ দূষণ জাতীয় উপাদান যুক্ত হচ্ছে তা বের করা সহজ নয়। গাড়ি কতোটা গ্রিনহাউস গ্যাস তৈরি করে তার পরিমাপ করা অনেক সহজ কিন্তু তা ইন্টারনেটের বেলায় বের করা অনেক কঠিন। ডাটা সেন্টার এমন বাড়ি যেখানে শত শত ফ্লাট আর সেই ফ্লাটে শত শত কম্পিউটার এমন সার্ভার যার জন্য অনেক শক্তি লাগে তা অনেক পরিবেশ দূষণ করে গ্যাস বাতাসে ছাড়ে। এর সঙ্গে আছে ফেসবুকের ছবি, ইউটিউবের ভিডিও, কোম্পানির ওয়েবসাইট এবং ব্যক্তিগত মেইল- এগুলোর পেছনে একটা ছাপ বসে গেছে, এরা সবাই বিশ্রীভাবে পরিবেশের ক্ষতি করে। ২০০২ সালে গ্লোবাল ডাটা সেন্টার প্রায় ৭৬ মিলিয়ন টন কার্বনডাই অক্সাইড গ্যাস বাতাসে ছেড়েছিল- এমন একটা সংখ্যা যা পরবর্তী দশকে তিনগুণ হয়ে যাবে। এ হিসাব করেছে ক্লাইমেট গ্রুপ অ্যান্ড গ্লোবাল ই সাসটেনেবেলিটি ইনিসিয়েটিভ (জিইএসআই) নেটওয়ার্কের কাঠামো প্রচুর কার্বন নিঃসরণ করে। এ কাঠামোর মধ্যদিয়ে ডাটা আসা-যাওয়া করে। এটা কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার থেকে ব্যক্তিগত কম্পিউটার, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য যন্ত্রে তথ্য পাঠায়। এখান থেকে কতোটা কার্বন বাতাসে মেশে তার সঠিক পরিমাণ বের করা বেশ কঠিন। তবে একই গবেষণায় জানা গেছে যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট যারা ব্যবহার করে তারা প্রায় চার মিলিয়ন টন কার্বন নিঃসরণ করে এবং এ সংখ্যা ২০২০ সালের দিকে গিয়ে ৫০ মিলিয়ন টনে পরিণত হবে। ব্যক্তিগত কম্পিউটার যেমন ডেস্কটপ তৈরি, তার ব্যবহার এবং ল্যাপটপ পরিবেশের ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলে। ২০০২ সালে এসব পণ্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন টন কার্বন বাতাসে ছেড়েছে। লাখ লাখ লোক প্রতিবছর নতুন নতুন কম্পিউটার, ল্যাপটপ এবং এ জাতীয় যন্ত্র কিনছে। পরের দশকে এ ধরনের যন্ত্রপাতি কেনার হার তিনগুণ হয়ে যাবে। এ সঙ্গে এটা সত্য যে অনলাইনের কিছু কার্যক্রম গাড়ির চেয়ে বেশি পরিমাণ পরিবেশ দূষণ করে। আবার অনলাইনের সব কাজই সমান পরিমাণ দূষণ সৃষ্টি করে না। যেমন ই-মেইল করার চেয়ে ভিডিও সংরক্ষণ করা, অন্যখানে পাঠানো এবং নামানোর সময় বেশি বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। যার মানে ভিডিও অনেক বেশি কার্বন নিঃসরণ করে। গুগল কোম্পানির হিসাব মতে, সার্চ ইঞ্জিন গুগল ০.২ গ্রাম কার্বনডাই অক্সাইড বাতাসে নিঃসরণ করে। গুগল গ্রিনের একজন ইঞ্জিনিয়ার এরিক টেটজেল বলেন, গুগলে যে শক্তি ব্যবহার করা হয় তা আপনার খোঁজ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে আবার আপনাকে সেই তথ্য জানিয়ে দেবে। যদি লোকজন হিসাব করে, তাহলে বলতে হবে গ্যাস নিঃসরণের ক্ষেত্রে যে হিসাব তার ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আমরা হিসাব করতে পারি, আমাদের এ সার্চ ইঞ্জিনে কতোটা খোঁজ এলো। কিন্তু এতে কতোটা কার্বন বের হলো তা বলা আমাদের সাধ্যের বাইরে। তবে প্রতিদ্বন্ধিতামূলক কারণে টেটজেল বলতে অস্বীকার করেন গুগল বছরে কতো টাকার বিদ্যুৎ বিল দেয়। তবে তিনি বলেন, গুগল নামের এ ইন্টারনেট কোম্পানি তার মূল ছয়টি পাঁচ মেগাওয়াট সার্ভার সবুজায়ন করছে এবং সারাবিশ্বে তার যতো ছোট ছোট ডাটা সেন্টার রয়েছে তাদেরও সবুজায়ন মানে যাতে তারা কম দূষণ করে সেই ব্যবস্থা করছে। নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে, রিসাইকল পানি ও এমন সফটওয়্যার ব্যবহার তারা ব্যবহার করছে যা অনেক কম বিদ্যুতে চলবে। টেটজেল বলেন, ব্যবসার দিক থেকে এটা অনেক অর্থপূর্ণ। সেই কারণে এগুলো অনেক কাজের জিনিস। অনেক কম সম্পদ ব্যবহার করে কোনো শক্তি উৎপাদন করা উত্তম। কম শক্তি ব্যবহার করে কাজ করার চেষ্টার আমাদের ব্যবসাকে আরো প্রতিদ্বন্ধিতামূলক বানিয়ে ফেলবে। অন্য কোম্পানিগুলো ইন্টারনেটের জন্য গ্রহণযোগ্য কোনো এক শক্তি ব্যবহারের কথা ভাবছে। হার্ভার্ডের উইসারনার গ্রসের একটা কোম্পানি রয়েছে যার নাম ঈ০২ স্ট্যাটাস দেয়। কোম্পানিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইটে তৈরির ফলে পরিবেশের ওপর কি ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে সেসব বিষয় দেখাশোনা করে এবং তারা নবায়নযোগ্য শক্তির সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করে দেয়। কারণ আইটি প্রতিষ্ঠানগুলো কার্বন ফুটপ্রিন্ট তৈরি করে মানে পরিবেশ দূষিত করে। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ক্লিনবিটস টবিস ওয়েবসাইট সবুজ সাইট হিসেবে আবির্ভাব হচ্ছে। তারা কার্বন কম ছাড়ে এমন উপাদান ব্যবহার করে। এআইএসও.নেট তারা সৌরশক্তিচালিত তথ্য কেন্দ্র চালায়। এটি ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত। গুগল, ইয়াহু একসঙ্গে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে এবং পরিবেশ দূষণের অন্য দিকগুলো পরিমাপ করে। ফলে ডাটা সেন্টার কম কার্বন নিঃসরণ করতে পারে।