সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে শেষ হল জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলন। সন্মেলনের শেষাংশে এসে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলনের কোপেনহেগেন অঙ্গীকারনামা উত্থাপন করেছে জাতিসংঘ।
৭ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ১৯
ডিসেম্বর শেষ হওয়া জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলনে অংশ নেয়া ১৯৩ দেশের মধ্যে ১৮৯টি দেশ এই অঙ্গীকারনামাকে একটি নোট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
সম্মেলনের শেষাংশে এসে তিন দিনের অচলাবস্থা চলার পর গত ১৮ডিসেম্বর থেকে ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশসহ ২৫টি দেশ মিলে কোপেনহেগেন অঙ্গীকারনামার খসড়া তৈরি করে। পরদিন তা সম্মেলনের নীতিনির্ধারণী পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে উত্থাপন করা হয়। চারটি ছাড়া বাকি সব দেশ তাত্ক্ষণিকভাবে তা অনুমোদন করে। সুদান, বলিভিয়া, নিকারাগুয়া, ব্রাজিল ও কিউবা এই অঙ্গীকারনামায় সই না করায় এখনো তা চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। তিন পৃষ্ঠার অঙ্গীকারনামার ১২টি শর্ত বাংলাদেশ অনুমোদন দিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে সবার সম্মতি পেলেই এটি একটি আইনগত বাধ্যবাধকতাসহ চুক্তি হিসেবে অনুমোদন পাবে। ইউএনএফসিসি আগামী এক বছর অঙ্গীকারনামার খুঁটিনাটি বিষয়ে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর তা চূড়ান্ত করবে।
এটি একটি রাজনৈতিক সমঝোতা হিসেবে বিবেচিত হবে উল্লেখ করে জাতিসংঘ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী এক বছরের মধ্যে একটি আইনগত বাধ্যবাধকতাসহ চুক্তির জন্য এখন থেকেই জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক (ইউএনএফসিসি) কাজ করবে। ২০১০ সালে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত কোপ-১৫ সম্মেলনে এ চুক্তি সই হবে বলে আশা করছে জাতিসংঘ।

তবে এ সন্মেলনের সমাপ্তিতে এটিকে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হিসেবে অভিহিত করেছেন পরিবেশবাদী কর্মীরা। সম্মেলনে জলবায়ু পবিরর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার লড়াইয়ে অর্থায়নের ব্যাপারে অগ্রগতি হলেও আর কোনো বিষয়ে তেমন কিছু অর্জিত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত ১৮ডিসেম্বর এ ব্যাপারে সমঝোতা প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। গতকাল শনিবার সম্মেলনের শেষ মুহূর্তে ব্যাপক আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক শেষের প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস অব দি আর্থ ইন্টারন্যাশনালের সভাপতি নিমো ব্যাসেই বলেন, ‘কোপেনহেগেনের সম্মেলনটি শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ। পদক্ষেপ নিতে (কার্বন নিঃসরণ কমানোর ব্যাপারে) দেরি করার মধ্য দিয়ে উন্নত দেশগুলো বিশ্বের লাখ লাখ গরিব মানুষের ক্ষুধা, দুর্দশা ও প্রাণহানির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্মেলনের এই শোচনীয় ফলাফলের জন্য উন্নত দেশগুলোকেও ভুগতে হবে বলে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
|