জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

বৃটেনের গবেষণা প্রতিবেদন -
এশিয়ার ১৩০ কোটি মানুষ পরিবেশ বিপর্যয়ের হুমকিতে

জাফর সাদেক শিবলী
আমারহেলথ(০৮ আগস্ট, রবিবার): সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হিমালয়ের হিমবাহগুলো আশঙ্কাজনক হারে গলে যাচ্ছে এবং এতে এশিয়া মহাদেশের একটি বিশাল অংশ খরায় আক্রান্ত হতে পারে। হিমালয়ের দুই হাজার ৪০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থাকা হিমবাহগুলো পাকিস্তান, ভারত, চীন, নেপাল ও ভুটানের মূল পানির উৎস।
এই অঞ্চলে তিন দশক ধরে প্রতি দশকে শূন্য দশমিক ১৫ থেকে শূন্য দশমিক ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেড়েছে। ফলে হিমবাহের গলে যাওয়ার হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরে জানান, এশিয়া মহাদেশের ১৩০ কোটি অধিবাসী হিমালয় পর্বতমালার হিমবাহগুলো থেকে সৃষ্ট পানির ওপর নির্ভরশীল।
বৃটেনের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা মতামত প্রদান করেন।
পরিবেশবাদী সংগঠন ডব্লিউডব্লিউএফের জীবনের জন্য জলবায়ু আন্দোলনের নেতা প্রশান্ত সিং বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, আগামী ৪০ বছরের মধ্যে বেশির ভাগ হিমবাহ গলে যাবে।
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্ত:সরকার প্যানেল (আইপিসিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যেই হিমালয়ের সব হিমবাহ গলে যেতে পারে।
নেপাল ও ভুটানে গলে যাওয়া হিমবাহ থেকে বিশালাকৃতির হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে। এসব হ্রদ উপচে ভাটিতে থাকা গ্রামগুলো প্লাবিত করতে পারে। নেপালের পর্বতারোহী ও পরিবেশকর্মী দাভা স্টিভেন শেরপা বলেন, ২০০৭ সালে মাউন্ট এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে একটি তুষারপাতের ঘটনার পর থেকে তিনি পরিবেশ বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠেছেন।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হিমালয়ের উত্সগুলো থেকে পানির প্রবাহ কমে গেলে ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাঁধাগ্রস্ত হতে পারে।
তবে বিজ্ঞানীদের একটি অংশ হিমবাহ গলে যাওয়ার এই ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে একমত নন। তাঁরা জানিয়েছেন, হিমবাহগুলো বরং আরও জমাট বাঁধছে।
নেপালভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট তিন দশক ধরে হিমালয় অঞ্চলের ওপর গবেষণা চালাচ্ছে এবং সতর্ক করে বলেছে, এ অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিরূপণে আরও গবেষণা দরকার।
গবেষণা প্রতিবেদনের মূল রচয়িতা ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলের ড্যান লান্ট বলেন, ‘আমরা অনেক বেশি আতঙ্ক তৈরি করতে চাচ্ছি না। তবে বিশ্ববাসী কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে এর মাত্রা কতটুকু হওয়া উচিত, তা নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী আমরা। কার্বন নিঃসরণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কেও আমাদের জানতে হবে।

এএফপি অবলম্বনে।