এইচ এম দিদার: রাজধানীর অভিজাত এলাকায় অবস্থিত গুলশান লেক নানা অব্যবস্থাপনার কারণে শ্রীহীন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন লেকের পানিতে ফেলা হচ্ছে হরেক রকম আবর্জনা। ময়লা-আবর্জনায় গন্ধময় হয়ে উঠেছে লেক। প্রতিনিয়ত ভয়াবহ দূষণের শিকার হচ্ছে পুরো গুলশান লেক এলাকা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে থমকে গেছে লেক উন্নয়নের ধারা। গত তিন দশকেও লেক পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মিত হয়নি। বাস্তবায়িত হয়নি লেকের মাস্টারপ্লান। রাতের বেলায় লেক পাড়ে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। অনায়াসে লেকের জলে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা।
রাতের আঁধারে লেকপাড়ে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। লেকপাড়ে ভ্রমণে আসা মানুষজন মাদকাসক্ত ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছে। বিশেষ করে গুলশান-২৯ নম্বর রোডে অহরহ ঘটছে এসব ঘটনা। গুলশান-১-এর ২৯ নম্বর রোডের লেকপাড়ে দিনের বেলায়ও কেউ চলাচল করার সাহস পাচ্ছে না বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। লেকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপ্রতুল হওয়ায় রাতের আঁধারে মাদকাসক্তদের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ পতিতাদের অবাধ বিচরণও বাড়ছে।
গৃহস্থালী, শিল্প, কাঁচাবাজারসহ হরেক পদের বর্জ্যে বর্জ্যে ভরে উঠছে লেকের উভয় পাড়। লেকের জলে ভাসছে নানা আবর্জনা। এসব আবর্জনা পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে লেকপাড়ের বাসিন্দারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন লেক দূষণের জন্য লেকপাড়ের বাসিন্দারাও নানাভাবে দায়ী। তারা গৃহনির্মাণ সামগ্রী থেকে শুরু করে গৃহস্থালী কাজে ব্যবহৃত নানা বর্জ্য লেকের জলে ফেলছে। এছাড়া গুলশান এলাকার লেকপাড়ের শত শত বাড়ি ও ফ্ল্যাটের স্যুয়ারেজ লাইনগুলো সরাসরি গুলশান লেকে স্থাপন করা হয়েছে। পয়ঃবর্জ্যে প্রতিদিনই গুলশান লেকের পানি দূষিত ও দুর্গন্ধময় হয়ে উঠছে। এছাড়া লেকের পাশে গড়ে ওঠা কাঁচা বাজারের অসংখ্য টন বর্জ্য প্রতিনিয়ত ফেলা হচ্ছে লেকের জলে । মুরগির বর্জ্য, মরা মুরগিও লেকের পানিতে ফেলা হচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত দূষণের কারণে লেকের পানি বিবর্ণ রূপ ধারণ করেছে। নীলচে রংয়ের পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছে নানা আবর্জনা। লেকের জলে ফেলা মরা মুরগি পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দূষিত হচ্ছে পানি ও বাতাস।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ময়লা-আবর্জনার কারণে লেকের পাড়ে সকালে চলাফেরা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। লেকের উভয় পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণের দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে লেকের পানি দূষণমুক্ত করারও দাবি জানান।
অবৈধ স্থাপনায় ইতোমধ্যে এ প্রসিদ্ধ লেকের প্রায় চল্লিশ ভাগ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে । এ প্রবণতা ঠেকাতে কর্তপক্ষ অনেকাংশে ব্যর্থ। এমনকি কর্তৃপক্ষ এবং রাজনৈতিক যোগসাজোশে ও লেকের যায়গা গুলো দুবৃত্তদের দখলে পরিণত হচ্ছে। সব মিলিয়ে বলা যায় পরিবেশ দূষণ এবং দুবৃত্তদের কবলে পড়ে রাজধানীবাসীর এ অমুল্য সম্পদ হারিয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আবু নাসের খান আমারহেলথ কে জানান, যারা লেক দখলকারী তারাই লেক দূষণকারী। লেক দখলকারীরাই প্রথমে ময়লা-আবর্জনা, ইট, সুড়কির গুঁড়া ফেলে সবার অলৰ্যে লেক দখল করে। এতে লেকের পানিও মারাত্মক দূষণের শিকার হয়ে পড়েছে। তিনি রাজধানীর হৃৎপিণ্ড হিসাবে বিবেচিত লেকগুলো যেকোন মূল্যে উদ্ধার এবং লেকের পানি দূষণমুক্ত করার দাবি জানান।
গুলশান লেক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত নিয়াজ মোরশেদ জানান, বর্জ্যে বর্জ্যে লেকের পানি দূষিত ও বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। মাত্রাতিরিক্ত দূষণের কারণে লেকের মাছ মরে ভেসে উঠছে।
|