হাউজ প্রতিক্রিয়া বর্তমান সময়ের একট বহুল আলোচিত বিষয়। সারা বিশ্বের সচেতন মানব সমাজ গ্রীন হাউজ প্রতিক্রয়ার ফলে আগামী কয়েক দশকে আবহাওয়ার যে পরিবর্তন ঘটবে বল আশংকা করা হচ্ছে এর জন্য শংকিত। ১৯৮৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনাবৃষ্টি, বনাঞ্চলে ভয়াবহ আগ্নিকান্ড, উত্তাপ প্রবাহ ও হ্যারিকেন বাঙলাদেশের ও সুদানের বয়াবহ বন্যা এবং পররর্তী সময়ে বিশ্বের বহু স্থানে বণ্যা, সাইক্লোন, খরা, আনাবৃষ্টি ইত্যাদি প্রাকৃতিক বিপর্যয় সবই গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়ার ফল বলে ধারনা করা হচ্ছে।
বায়ুমন্ডল ও গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়া:
পৃথিবীর চতুর্দিকে ব্যাপৃত গ্যাসীয় আবরনই বায়ুমন্ডল, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০০ মাইল পর্যন্ত বায়ুমন্ডল বিস্তৃত। ভূ-পৃষ্ঠের উপরেই বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশী। এবং উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এর ঘনত্ব কমতে থাকে। বায়ু প্রধানত অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের মিশ্রন। এছাড়াও বায়ুতে জ্বলীয় বাস্প বিভিন্ন নিষ্ক্রিয় গ্যাস কার্বন-ডাই অক্সাইড ও হাইড্রোজেন সালফাইড স্বল্প পরিমানে থাকতে পারে। বায়ুমন্ডল আমাদের বিশ্বকে একটি কম্বলের ন্যায় ঢেকে রেখেছে। তাই বিশ্ব মোটামুটি একটি আরামদায়ক বাসস্থান এর গড় উষ্ণতা ০ থেকে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পৃথিবীর ন্যায় সূর্য থেকে প্রায় একই সমান দূরুত্বে অবস্থিত চন্দ্রের চার পাশে কোন বায়ুমন্ডল নেই বলে চন্দ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠানামা করে। চন্দ্রপৃষ্ঠের গড় উষ্ণতা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু পৃথিবী পৃষ্ঠের অতি নিকটে বায়ুমন্ডলের গড় উষ্ণতা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পৃথিবীর চারপাশে কোন বায়ুমন্ডল না থাকলে পৃথিবীপৃষ্ঠের গড় উষ্ণতাও ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি হত।
গ্রীন হাউজ প্রতক্রিয়ার ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়া:
গ্রীন হাউজ প্রতক্রিয়ার ফলে তাপমাত্রা ২-৫ ডিগ্রী সে. বৃদ্ধি পেলে পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য সম্পূর্ণরুপে বিনষ্ট হবে বলে অনেকেইর মনে করছেন। এর ফলে- সমুদ্র পৃষ্ঠদেশের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে অনেক মহাদেশের অভ্যন্তর শুষ্ক হয়ে যাবে, অর্থাৎ মরু অঞ্চলের বিস্তৃতি ঘঠবে মেরু অঞ্চলের হিম শৈল বিগলিত হবে উষ্ণ মন্ডলীয় অঞ্চলের বনভূমির বিনাশ হবে এবং বায়ু প্রবাহের বর্তমান গতি পরিবর্তিত হবে
গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়া হ্রাসের উপায়:
গ্রীন হাউস প্রতিক্রিয়া কিভাবে কমানো যায় সে সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী চিন্তা ও গবেষণা চলছে। এ ব্যাপারে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গুলি গ্রহন করা যেতে পারে-
কার্বন ডাই অক্সাইড অন্যান্য গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা জ্বালানী শক্তির ব্যবহার কমানো, সেক্ষেত্রে বিকল্প জ্বালানীর ব্যবহার বৃদ্ধি করা জনসংখ্যাকে স্থিতিশীল রাখার জন্য সর্বজনীন পরিবার পরিকল্পনা কাযর্কর করা সূর্য কিরণকে গ্রীন হাউস প্রতিক্রিয়াহীন বিভিন্ন গ্যাসের আবরণ দিয়ে প্রতিহত করা
এছাড়া আরো যেসব পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে- দ্রুত গতিতে নতুন বনাঞ্চল গড়ে তোলা জীবাশ্ম জ্বালানী অর্থাৎ তেল,কয়লাইত্যাদিরদহনসীমিতকরণ জীবাশ্ম জ্বালানীর পরিবর্তে নিউক্লিয়ার শক্তির ব্যবহার বিকল্প জ্বালানী হিসেবে সৌর শক্তির ব্যবহার রাসায়নিক সারের অপরিকল্পিত ব্যবহার হ্রাস করা
গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী রোগের বিস্তার:
গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে যেসব রোগের বিস্তার লাভ করবে সেগুলোকে নিচের শ্রেণীতে ভাগ করা হলো- মশাবাহিত রোগ- ডেংগু, ম্যালেরিয়া, রিফট ভ্যালী জ্বর ও এনসেফিলিটিস ইদুর জাতীয় প্রাণিবাহিত রোগ- এইচ, পি, এস পানিবাহিত রোগ- কলেরা অসংক্রামক রোগ- আগুন ও ধোয়া থেকে শ্বাসকষ্ট জনিত বিভিন্ন রোগ।