জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের মাত্রা নির্ধারণে উন্নত বিশ্ব ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর চরম মতবিরোধ

এইচ এম দিদার

জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের মাত্রাকে কেন্দ্র করে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতবিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। তাই এ সম্মেলনকে ঘিরে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল তা নিরাশায় পরিণত হতে চলেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। চীনের দাবী গ্রিনহাউস গ্যাস প্রতিক্রিয়ার জন্য দায়ী অন্যতম দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য কোটি কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে চীন।

 

চীন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ। অপরদিকে চীনের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান জোয়াং জাইলং অভিযোগ করেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য তহবিল গঠনে উন্নত দেশগুলোর উদাসীনতা কোপেনহেগেন সম্মেলনের সবচেয়ে বড় বাধা। চুক্তিতে পৌঁছতে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য তহবিল গঠনের বিকল্প নেই। এ বিষয়ে উন্নত বিশ্বের অবহেলা সম্মেলনকে অকার্যকর করে ফেলছে ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য উন্নত দেশগুলোকে দায়ী করে আসছেন। জলবায়ু পরিবর্তনে দরিদ্র দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর দায়ভার উন্নত দেশগুলোকেই নিতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন মনমোহন।

এদিকে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ২০-৩০ শতাংশ কমাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো বৃহস্পতিবার দুই দিনের এক বৈঠকে বসেছে। তবে ইইউ-র  শিল্পোন্নত দেশগুলো এ ব্যাপারে রাজি হলেই তা সম্ভব। ফরাসি পরিবেশ মন্ত্রী বলেছেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ৩০ শতাংশ পর্যন- কমাতে চান। রাশিয়াও ২০২০ সাল নাগাদ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন- কমাতে চায়।

 তবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো এ গ্যাস নির্গমন ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ৪০ শতাংশে কমিয়ে আনতে জোর দাবি জানিয়ে আসছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিচিত তিন বৃহৎ দেশ ভারত, চীন ও ব্রাজিল ক্ষতিগ্রস্ত- এ দেশগুলোর দাবির সঙ্গে একমত নয়। তাদের দাবি, তারা এখন বিকাশমান অর্থনৈতিক শক্তি। ৪০ শতাংশ হারে গ্যাস নির্গমন হ্রাস তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিপন্থী।