আমারহেলথ (২৭জুলাই, মঙ্গলবার): জলাধার ভরাট, কীটনাশকের ব্যবহার, দূষণ ও অপরিকল্পিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। দেশে মিঠা পানির মাছের প্রজাতির সংখ্যা ২৬০। এর মধ্যে ২০০ প্রজাতির মাছ আজ বিলুপ্তির পথে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, স্বাদু পানির বিপন্ন ৫৪টি প্রজাতির মধ্যে ৫টি চরম বিপন্ন, ১৮টি বিপন্ন ও ৯টি সঙ্কটাপন্ন। তাই গবেষণার মাধ্যমে বিলুপ্ত বা অতিবিপন্ন প্রজাতির এসব মাছের চাষ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে মৎস্য বিজ্ঞানীরা।
বিশিষ্ট মৎস্য বিজ্ঞানী মোঃ আহম্মদ আলী বলেন, কৃষি খাতে সবুজ বিপ্লব শুরুর পূর্বে আমাদের প্রাকৃতিক জলাশয় তথা খাল-বিল, হাওড়-বাঁওড়, ডোবা-নালায় ছোট বড় সব মাছের যথেষ্ট প্রাচুর্য ছিল, কিন্তু কালের বিবর্তনে ছোট মাছের অনেক প্রজাতিই আজ চরমভাবে বিপন্ন ও বিলুপ্তির পথে। মূলত এসব মাছের আবাসস্থল হচ্ছে নদ-নদী, খাল-বিল ও প্লাবনভূমি। অপরিকল্পিত ও সমন্বয়হীন উন্নয়ন ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার কারণে সামগ্রিকভাবে অন্যান্য মাছের ন্যায় ছোট মাছের উৎপাদনও ক্রমশ কমে যাচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে চিংড়ি চাষের ক্রমাগত প্রভাবে অনেক ছোট জাতের মাছ বাইম, বেলে, টেংরা, কৈ, পাবদা, খোকশা, সেফাটিয়া, ঘোড়া মাছ, উড়াল মাছ, ভেটকি মাছ আজ বিলুপ্তির পথে।
মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে পানি সেচে মাছ ধরা বন্ধ, হাওড় মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা, অভয়াশ্রম সৃষ্টি, জলজ পরিবেশ অক্ষুন্ন রাখা ও জলজ বৃক্ষরোপণ, জনসচেতনতা সৃষ্টি, মাছ ও পানি প্রবাহের অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করছেন মৎস্য বিজ্ঞানীরা। তাছাড়া ভরা বর্ষায় মাছের পোনা উন্মুক্ত জলাশয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে ছাড়া যেতে পারে। বিল-ঝিল, ডোবাগুলো খননের ব্যবস্থা নিতে হবে।
|