জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

'জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে একমত বিশ্ব'

আমারহেলথ ডেস্ক (৩০ অক্টোবর, শনিবার): জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আন্তর্জাতিক একটি চুক্তির ব্যাপারে ধনী ও গরিব দেশগুলো একমত  হয়েছে বলে জীববৈচিত্র্যবিষয়ক সম্মেলনের শেষ দিনে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মানুষের কর্মকাণ্ড থেকে পরিবেশকে বাঁচানো এবং বিলুপ্তির মুখে পড়া জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জাতিসংঘের এ সম্মেলনে ২০ দফা খসড়া পরিকল্পনায় প্রতিনিধিরা সম্মত হয়েছেন বলেও জানান আয়োজকরা।
জাপানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর নাগোয়ায় ১২ দিন ধরে চলা জীববৈচিত্র্যবিষয়ক সম্মেলনটি শেষ হয় ২৯  অক্টোবর। ২৯ অক্টোবর রাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা যায়, সম্মেলনে অংশ নেওয়া ১৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা এর প্রধান প্রধান লক্ষ্যগুলোর ব্যাপারে একমত হয়েছেন। তবে পৃথিবীর রেইনফরেস্ট এবং উন্নয়নশীল দেশের প্রাণবৈচিত্র্যবহুল এলাকার সম্পদজাত পণ্যের 'সুষ্ঠু ভাগাভাগি' নিয়ে বিরোধ মীমাংসার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
সম্মেলনের শেষ দিনে আন্তর্জাতিক চুক্তির ব্যাপারে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দেশগুলোর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানান জাপানের পরিবেশমন্ত্রী রিউ মাৎসুমোতো। তিনি বলেন, 'বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিরা একটি খসড়া চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন। খসড়া চুক্তিটি পরে অনুমোদন করা হবে বলে আশা করছি আমি।'
তবে প্রস্তাবিত 'অ্যাকসেস অ্যান্ড বেনিফিট শেয়ারিং প্রটোকল' (এবিএস) অনুমোদনের জন্য প্রত্যেক প্রতিনিধি দেশের সম্মতি প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন আলোচকরা। এ বিষয়ে আবারও বিরোধ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তাঁরা। ২৯ অক্টোবর রাতে প্রতিনিধিদের সর্বশেষ বৈঠকে খসড়া চুক্তির পাশাপাশি এ বিষয়টিও উত্থাপনের কথা ছিল।
এবিএস প্রটোকলের বিষয়ে কোনো নিষ্পত্তি না হলে জীববৈচিত্র্য রক্ষার কৌশলগত পরিকল্পনায় সম্মতি দেবে না বলে সম্মেলনের সময়জুড়েই হুঁশিয়ারি দিয়েছে ব্রাজিল। ব্রাজিল এবং উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশ দাবি করছে, উন্নত দেশ এবং তাদের কম্পানিগুলো ওষুধ, প্রসাধনসহ এরকম অন্যান্য পণ্য উৎপাদনের জন্য গরিব দেশ থেকে বিনা মূল্যেই বিভিন্ন ধরনের বনজ সম্পদ নিয়ে যায়। বিষয়টিকে 'বায়োপাইরেসি' বলে উল্লেখ করে তারা। আহরিত বনজ সম্পদের উপাদানকে জিনপ্রকৌশলের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন করে ধনী দেশগুলো যে মুনাফা পায়, তাতে অংশ দাবি করে গরিব দেশগুলো। কিভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি হতে পারে তা নিয়ে সম্মেলনের পুরো সময় বিতর্ক চলেছে।
কৌশলগত ২০ দফা পরিকল্পনার মাধ্যমে কার্বন দূষণ বন্ধ, স্থল ও জলভাগের অংশবিশেষ সংরক্ষণ, কোরাল রিফ সংরক্ষণ এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর শিল্পগুলোর ভর্তুকি বন্ধের বিষয়ে দেশগুলোকে চুক্তিবদ্ধ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র : এএফপি।