জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

পরিবেশ আইন-২০১০ এর অনুমোদন
সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে

আমারহেলথ (১৯ জুলাই, সোমবার): পরিবেশ দূষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে মন্ত্রিসভা পরিবেশ আদালত আইন ২০১০ অনুমোদন করেছে। 
সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ আইনের খসড়ার পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন দেয়া  হয়। 
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফিং কালে বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধে প্রতি জেলায় পরিবেশ আদালত স্থাপন করা হবে। পরিবেশ বিপর্যয় রোধে ও পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের আইনি কার্যক্রম বিদ্যমান পরিবেশ আদালত আইনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায় নতুন আঙ্গিকে পরিবেশ আদালত আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া হয়।
এর আগে ২০০৯ সালের ২ নভেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে খসড়াটির নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।
বিদ্যমান পরিবেশ আদালত আইন-২০০০-এ যুগ্ম জেলা জজ পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভাগীয় পরিবেশ আদালত গঠনের বিধান রয়েছে। এ পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রামে ২টি পরিবেশ আদালত গঠিত হযেছে। দেশের অন্যান্য বিভাগে এখনো পরিবেশ আদালত গঠিত হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব বলেন, প্রস্তাবিত আইনে প্রতিটি জেলায় একটি করে পরিবেশ আদালত স্থাপনের বিধান রাখা হয়েছে। আইন লঙ্ঘন করে পরিশে দূষণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষে উভয়দণ্ডেরও বিধান রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
শহর ও শিল্পাঞ্চলে পরিবেশ দূষণের মাত্রা বেশি হলেও বিদ্যমান পরিবেশ আদালত আইন, ২০০০-এর বিধান অনুযায়ী দেশের জেলা পর্যায়ে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। এ আইনের অধীনে শুধুমাত্র পলিথিন শপিং ব্যাগ উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাত, মজুদ, বিতরণ, গাঁড়ির কালো ধোঁয়া নির্গমণের বিরুদ্ধে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও পরিবেশ দূষণের অন্যান্য গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে স্পেশাল আদালত তেমন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না।
বৈঠকে এ ছাড়াও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী আইন, ২০১০-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব জানান, বন্যপ্রাণী নিধনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশের ভারসাম্য। এবং বিলুপ্তির পথে অনেক বন্যপ্রাণী। এ অবস্থায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যপ্রাণী আইন, ২০১০-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন।