জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

প্রতিবছর প্রায় ২৮ লাখ টন ইলেকট্রনিক বর্জ্য উৎপাদিত হয়

আমারহেলথ (০৯ অক্টোবর, শনিবার): সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও অসচেতনতার কারণে প্রতিবছর দেশে উৎপাদিত ২৮ লাখ টন ইলেকট্রনিক (ই-বর্জ্য) বর্জ্য পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি করছে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইপিইএনের গ্লোবাল মার্কারি ওয়েস্ট কো-অর্ডিনেটর ও এসডোর মহাসচিব ড. হোসেন শাহরিয়ার। ইন্টারন্যাশনাল পপ্স অ্যালিমিনেশন নেটওয়ার্কের ই-ওয়েস্ট প্রকল্পের আওতায় এই গবেষণা প্রবন্ধ তৈরি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গবেষণায় দেখা গেছে, ই-বর্জ্যদূষণের ফলে ক্যান্সার, অ্যাজমা, শিশুমৃত্যু, এমনকি স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়াও বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, সর্বোপরি পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এক লাখেরও বেশি নারী ও শিশুশ্রমিক ই-বর্জ্যসংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। তারা প্রতিনিয়ত বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ও গ্যাস যেমন সিসা, মার্কারি, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, জিংক, পিসিবি এবং ফিউরানের দূষণের শিকার হচ্ছে। প্রতিবছর বাংলাদেশ যে ২৮ লাখ টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে তার প্রায় ২৫ লাখ টন আসছে জাহাজভাঙা শিল্প থেকে।
এ ছাড়া মোবাইল ফোনসেট থেকে প্রায় ১০ হাজার ৫০৪ টন, টেলিভিশন সেট থেকে ৮৮ হাজার ৩৫৭ দশমিক ১৪ টন এবং অন্যান্য উৎস যেমন পরিত্যক্ত মিউজিক সিস্টেম, ডিভিডি প্লেয়ার, সিএফএল বাল্ব, ভিডিও ক্যামেরা, ফ্যাঙ্ ও ফটোকপি মেশিন, ভিডিও গেমস এবং মেডিক্যাল ও ডেন্টাল সরঞ্জামাদি থেকে এক লাখ টনেরও বেশি ই-বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সাবেক সচিব ও এসডোর চেয়ারপারসন সৈয়দ মার্গুব মোরশেদ, নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ ও নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।