জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

প্রতিনিয়ত ধুলোবালিতে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছে নগরবাসী

এইচ এম দিদার: প্রতি বছর শীতের শেষাংশে এবং গরম শুরু হওয়ার পরই রাস্তায় বের হলে রাজধানীবাসীর পড়তে হয় ধুলোবালির কবলে। রাজপথ থেকে শুরু করে পাড়া, মহল্লার অলিগলিতে পর্যন্ত ধুলোবালির রাজত্ব।

কয়েক মাস আগে মেরামত হওয়া বা এখনও মেরামত, খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলতে থাকা রাস্তা থেকে আবর্জনা না সরানো, প্রতিদিন ঝাড়ু দেয়ার পর রাস্তার পাশেই আবর্জনা জমিয়ে রাখা, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বাড়িঘর নির্মাণই ধুলোবালির উত্স বলে ধরা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ধুলোর যন্ত্রণায় অস্থির নগরবাসী। এসব ধুলোর কারণে রাজধানীর বাসিন্দাদের মাঝে শ্বাসকষ্ট, এলার্জি, ব্রংকাইটিসের মতো মারাত্মক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানান চিকিৎসকরা ।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন জানান, বৃষ্টি না হওয়া, পানি না ছিটানো ও সংযোগ না থাকায় নর্দমার দূষিত জীবাণু বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বায়ুদূষণ ঘটছে। এতে ঢাকাবাসী নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উদাসীনতা, অবহেলা ও সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করছেন তিনি।

রাজধানী বাসীর কাছ থেকে জানা যায় বছর দুয়েক আগেও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা রাস্তায় পানি ছিটাতেন  শীতকালে ধুলো কমাতে । তাতে ধুলোর প্রকোপ অনেক কমে যেতো বলে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এবার কেন পানি ছিটানো হচ্ছে না, বা হবে কি না, এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সিটি কর্পোরেশন সুত্রে জানা যায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল এবং পানি ছিটানোর ঘাড়ির অপর্যাপ্ততার কারণে বর্তমানে পানি ছিটানো সম্ভব নয়। 

এ বছর শুরুর দিকে ওয়াসা ও সিটি করপোরেশন নগরীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ি করে। যার মধ্যে রয়েছে রামপুরার পলাশবাগ, উত্তর উলন এলাকা, হাজীপাড়া, মগবাজার, মধুবাগ, মিরপুরের মধ্য পাইকপাড়া, শাহ সাহেবনগর, পূর্ব বাসাবো, উত্তর শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, পূর্ব বাসাবোর কমিশনার গলি, উত্তর যাত্রাবাড়ী, মীরহাজিরবাগ, পূর্ব মানিকনগর, মুগদাপাড়া, পশ্চিম আগারগাঁও, উত্তর পীরেরবাগ, তেজগাঁও রেজিস্ট্রি বিল্ডিংয়ের পাশের রোড, ইন্দিরা রোডসহ উত্তরা, গুলশান, ধানমন্ডি, বারিধারা, পুরান ঢাকার রাস্তাঘাট। খোঁড়াখুঁড়ি ও মেরামতের পরও সেসব রাস্তা থেকে আবর্জনা সরানো হয়নি। এমনকি পানিও ছিটানো হয়নি বলে স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করলে জানা যায়। এসব আবর্জনাই বাতাসে উড়ছে। ফলে রাস্তাগুলো দিয়ে চলাচলের সময় নগরবাসীকে চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।


অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও রাতে ও সকালে রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে ঠিকমত আবর্জনা সরায় না। রাস্তার পাশেই আবর্জনা স্তূপাকারে জমা হয়ে থাকছে। সরেজমিনে গেলে মালিবাগ, কাকরাইল, শান্তিনগর, মতিঝিল, শাহবাগের রাস্তায় এমন চিত্র দেখা যায়।

ফলশ্রুতিতে  নগরবাসীর শ্বাসকষ্ট, এলার্জিজনিত রোগ বাড়ছে। ধুলোর ফলে রোগের প্রকোপ আরও বাড়বে। সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, পুরান ঢাকার কাপ্তানবাজার, বেচারাম দেউড়ি, এ কে দাস রোড, ডিস্ট্রিলারি রোড, টিকাটুলি রোড থেকে যাত্রাবাড়ীর ঘুণ্টিঘর, মহাখালি থেকে মগবাজার, তেজগাঁওয়ের এফডিসি সড়ক, রামপুরা বাজার থেকে পূর্ব রামপুরা, যাত্রাবাড়ী থেকে ডেমরা, রিংরোড থেকে তাজমহল রোডে ধুলোর ছড়াছড়ি। এসব রাস্তায় গাড়ি চলাচলের সময় ধুলোতে অন্ধকার হয়ে যায়। ভারি হয়ে থাকে বাতাস। রাস্তা পারাপার তখন অনেকক্ষেত্রে দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। রাস্তা পারাপারে যাত্রীদের পোহাতে হয় নিধারুন ভোগান্তি।