জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণে বিলম্ব হলে ভোগান্তি বাড়বে- প্রধানমন্ত্রী

আমারহেলথ (২৯ মার্চ, মঙ্গলবার): জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় সহায়তা বাড়াতে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে কমিউনিটি বেইসড এডাপটেশন টু ক্লাইমেট চেঞ্জ শীর্ষক ৫ম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি এ আহবান জানান। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার সমাধানে গ্রীন হাউজ গ্যাস নির্গমণ কমাতে হবে। ধনী দেশগুলোকে এ ব্যাপারে নেতৃত্বের ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। এই ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণে যত বিলম্ব হবে, মানুষের ভোগান্তি তত বাড়বে। তত বেশি অভিযোজন কর্মসূচির প্রয়োজন হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বিশ্বের সব দেশ সমানভাবে দায়ী নয়। ধনী এবং উন্নত দেশগুলো তাদের উন্নয়ন এবং জীবন-যাপন প্রক্রিয়ায় অধিক পরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করছে। তারাই এ ক্ষতিকর পরিবর্তনের জন্য প্রধানত: দায়ী। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অভিযোজন কার্যক্রমে তাদের জোরালোভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ৪০ লাখ মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এখানে উন্নয়ন সহযোগীদের আরো সাহায্য বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, সমুদ্র-পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ত পানি প্রবেশ, জলোচ্ছ্বাস এবং ভূমি ক্ষয়ের মত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে হাজার বছরের ঐতিহ্যগত জীবন-যাপন প্রক্রিয়া এবং অর্থনীতি আজ বিপর্যস্ত। এর ফলে দারিদ্র্য বিমোচনে সরকার যেসব উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়েছে সেগুলো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরে এবং ২০০৯ সালের আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষ আজও তাদের বাড়ি-ঘরে ফিরে যেতে পারেনি। হাজার হেক্টর আবাদি জমি এখনও লবনাক্ত পানির নীচে তলিয়ে আছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় একটি ফান্ড গঠন করেছে। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ণ সহযোগীরা বাংলাদেশকে এ পর্যন্ত ১শ' মিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু এ সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ সমস্যা মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন কয়েক বিলিয়ন ডলার।