জাফর সাদেক শিবলী
আমারহেলথ (১ সেপ্টেম্বর, বুধবার): জাতিসংঘের বৈশ্বিক উষ্ণতা পরিবর্তন বিষয়ক কমিটির মৌলিক সংস্কারের আহবান জানিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক পর্যালোচনা প্যানেল।
সম্প্রতি অতি গুরুত্বপূর্ণ এক প্রতিবেদনে বিব্রতকর ভ্রান্তির কারণে সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পর এ আহবান জানানো হলো।
নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তরাষ্ট্রীয় প্যানেল (আইপিসিসি) তিন বছর আগে হিমালয়ের হিমবাহ ২০৩৫ সালের মধ্যেই গলে যাবে বলে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
পর্যালোচনা গ্রুপ ইন্টার একাডেমী কাউন্সিল (আইএসি) অবশ্য আইপিসিসি-কে ‘সার্বিকভাবে সফল’ বলেই মনে করছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের নির্দেশে পর্যালোচনা পরিষদটি গঠন করা হয়। পাঁচ মাস তদন্তের পর আইএসি জানায়, পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে আইপিসিসির আরো জোরদার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ব্যবহার করা উচিত। তারা আইপিসিসির সভাপতি রাজেন্দ্র পাচৌরির নেতৃত্বের যথার্থতা খতিয়ে দেখারও পরামর্শ দেয়।
২০০৭ সালে আইপিসিসি হিমালয় নিয়ে যে গবেষণাপত্র প্রকাশ করে, তা নিয়ে সৃষ্ট সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই বিশ্বের ১৫ শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান একাডেমী নিয়ে আইএসি গঠন করা হয়।
আইপিসিসি অবশ্য স্বীকার করে, হিমালয়-সংক্রান্ত ওই তথ্যটি তারা গবেষণা করে পায়নি। ১৯৯৯ সালে ভারতের একটি সাময়িকী থেকে তথ্যটি তুলে দেয় তারা। ওই সাময়িকী এক স্বল্পপরিচিত ভারতীয় বিজ্ঞানীকে উদ্ধৃত করে তথ্য পরিবেশন করে। তবে ওই বিজ্ঞানীও তখন বলেছিলেন, এটা তাঁর ধারণা মাত্র, গবেষণাগত কোনো ভিত্তি এর নেই।
আইপিসিসির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, নেদারল্যান্ডসের ৫৫ শতাংশ ভূখণ্ড সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়ে নিচে অবস্থিত। প্রকৃতপক্ষে ২৬ শতাংশ সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়ে নিচু। এতে আরো বলা হয়, আফ্রিকার সাড়ে সাত থেকে ২৫ কোটি পর্যন্ত মানুষ ২০২০ সালের মধ্যে পানির সরবরাহ নিয়ে ঝুঁকির মুখে পড়বে। তবে সত্যিকার রেঞ্জটি হচ্ছে ৯ থেকে ২২ কোটি।
এ পর্যালোচনা কমিটির নেতৃত্ব দানকারী প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি হেরোল্ড শাপিরো বলেন, ‘এ ভুলের কারণে প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো কারণ নেই। বিশ্বাস হচ্ছে সেই জিনিস, যা বছরের পর বছর ধরে অর্জন করতে হয়। আমরা মনে করি, আমাদের পরামর্শগুলো কাজে লাগবে।’
আইপিসিসি তাদের ভুল স্বীকার করলেও বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তাদের মূল উদ্বেগ অহেতুক নয়। তবে সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে আইএসি জানায়, আইপিসিসির ব্যবস্থাপনা কাঠামোতে পরিবর্তনের প্রয়োজন। জটিল ও বিস্তৃত জলবায়ু-সংক্রান্ত তথ্যগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংস্থাটির প্রক্রিয়া আরো জোরদার করতে হবে।
ভারতীয় বিজ্ঞানী পাচৌরির ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তিনি ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারে কার্বন নিয়ে কাজ করে এমন কম্পানির সঙ্গে ব্যবসায় নেমেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আইপিসিসির ১৯৪ সদস্য রাষ্ট্র চাইলে তিনি পদত্যাগ করতে রাজি আছেন। আগামী মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে এ প্যানেলের সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র : এএফপি, সানডে এক্সপ্রেস, বিবিসি। |