
আমারহেলথ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবার প্রতি কার্বনমুক্ত বিশ্ব গড়তে আত্মকেন্দ্রিকতা ও ক্ষুদ্রস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে চার দিনব্যাপী ‘চতুর্থ বিশ্ব ভবিষ্যত জ্বালানি সম্মেলন’-এ ভাষণকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি-প্রযুক্তির পাশাপাশি জ্বালানির সব উৎসের সদ্ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের প্রয়োজনে জ্বালানি উৎসের বিষয়ে আমাদের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি-প্রযুক্তির পাশাপাশি নিজস্ব মজুদ গ্যাস, কয়লা, আমদানি করা তেল, পরমাণু শক্তিসহ জ্বালানির সব উৎসের ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্রণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বকে গ্রিন হাউস গ্যাসমুক্ত করতে চাই। কিন্তু এর জন্য সময় প্রয়োজন। বাংলাদেশও পরিচ্ছন্ন জ্বালানিব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং এরই মধ্যে ৪০ লাখ বাড়িঘরে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি মজুদের ক্ষেত্রে আবুধাবি শীর্ষে। ফলে পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে এটি হবে বিশ্বের প্রথম শূন্য মাত্রার কার্বন নগর। আবুধাবিতে সুদৃশ্যমান ম্যানগ্রোভ গাছের চারার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর সঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট বাংলাদেশের সুন্দরবনের সাদৃশ্য দিয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সুন্দরবনসহ কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, ভুটানের স্ফটিক স্বচ্ছ হ্রদ, মালদ্বীপের প্রবাল দ্বীপ এবং বিশ্বের অত্যুজ্জ্বল জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
‘গ্রিন হাউস নির্গমনের কারণেই বিশ্ব দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কার্বন নিসঃরণে বাংলাদেশের ভূমিকা একেবারে নেই বললেই চলে। অথচ দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শিকার। এর প্রভাবে সৃষ্ট অনিশ্চিত আবহাওয়া ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এ দেশে প্রাণহানি যেমন ঘটছে, তেমনি উন্নয়ন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, আইসল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অলফার রেগর ফ্রিমশন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী জোসে সক্রেটিস, জর্জিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকা গিলরি, আবুধাবির যুবরাজ শেখ জায়েদ বিন আল নাহিয়ান। স্বাগত বক্তব্য দেন মাজদার কোম্পানির সিইও সুলতান আহমেদ আল জাবের।
সূত্র: বাসস। |