জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

নগরায়ন বিষয়ক কর্মশালায় অভিমত

ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখার জন্য এখনই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ দরকার

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা মেগাসিটির কার্যকর পরিচালনার জন্য নগরের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত ও কার্যাবলীকে জানার ও সঠিকভাবে উন্নয়নমূলক কাজে ব্যাবহার করা উচিত।গত ২৪ ফেব্রুয়ারী বুয়েটে নগরায়ন বিসয়ক এক কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এ কথা বলেন।
নগর ও অঞ্ছল পরিকল্পনা বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও মেগাসিটি মেগাচ্যালেঞ্জ শীর্ষক গবেষনা প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত জার্মানীর ডর্টমুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়, কনান বিশ্ববিদ্যালয়, হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এর যৌথ উদ্যোগে “নগর ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত চালচিত্র” শীর্ষক দুইদিন ব্যাপী কর্মশালা ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১০ তারিখ বুয়েটের কাউন্সিল ভবনে শুরু হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম প্রধান আতিথি ও বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ও ড. এ. এম. এম. শফিউল্লাহ, অধ্যাপক সেবাইন বমগার্ট, ডর্টমুন্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অধ্যাপক পিটার জিংগেল, হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. সারওয়ার জাহান।
অধ্যাপক বমগার্ট ও জিংগেল নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়নে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ও সম্ভাব্য ও বিশ্বব্যাপী ব্যাবহারের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশেও নগর উন্নয়ন, দারিদ্র বিমোচন, উচ্চ ও মধ্যবিত্তর আবাসন ও পরিবহন, সামাজিক সমস্যা সমাধানে সম্ভাব্য কার্যকারিতার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন। অধ্যাপক ড. সারওয়ার জাহান অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাবস্থাপনাকে সুপ্রচলিত কিন্তু প্রায়ই উপেক্ষিত বলে মন্তব্য করেন। উক্ত কর্মশালায় বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. সায়ের গফুর, মহিদুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, জনাব মারুফ রহমান, ডব্লিউ. বি. বি. ট্রাস্ট, এল জি ই ডি, প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে, বিশেষত ঢাকার অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত ও ব্যাবস্থাপনার উপর দুইদিনব্যাপী কর্মশালায় মোট ১৩টি গবেষনা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। উদ্বোধনী দিনে নগর পরিচালনা, নাগরিক স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও খাস জমি অপ্রাতিষ্ঠানিক (বৈধ ও অবৈধ) বিষয়াদি নিয়ে ৫ জন জার্মানী, ১৩ জন বাংলাদেশী গবেষকের মোট ১৭টি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়। ফারজানা খাতুন, অর্চি বিশ্বাস ও ড. ইশরাত ইসলাম ঢাকা মহানগরীর খাস জমির অবস্থা ও অবস্থান বিশ্লেষনকালে অবৈধভাবে দারিদ্রকে পুজি করে প্রভাবশালীদের খাস জমি ভোগ করার কথা বলেন এবং নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়নে উক্ত জমিসমূহ খুজে বের করে সকলের উপকারে ব্যাবহারের কথা বলেন ক্রিস্টেন হ্যাকেনব্রো ও সাহাদাত হোসেন রাজধানীর সবচেয়ে বড় করাইল বস্তির দোকান বরাদ্দ করার প্রক্রিয়া, পানি সরবরাহ ব্যাবস্থাপনার উপর তাদের ডক্টরাল গবেষনার ফলাফল প্রদর্শনকালে আওয়ামী লীগ ও বি এন পি উভয় দলের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের বস্তিবাসিদের উপর শোষন চালিয়ে অধিক সুবিধা প্রাপ্তির কথা বলেন।
বিকালের অধিবেশনে জনাব অভিত কুমার ভৌমিক, ড. শাকিল আখতার, সামিউল ইসলাম তাদের হাজারীবাগ ট্যানারী ও এর অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সঙ্কট শীর্ষক গবেষনা প্রবন্ধে উল্লেখ করেন জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপুর্ন অবদান রাখার পরেও ট্যানারি ও অন্যান্য শিল্পে জড়িত শ্রমিকদের মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে আছেন। ফলশ্রুতিতে শ্রমিকের জীবনকাল ৫০ বছরের পূর্বে শেষ হয়ে যাচ্ছে।এছাড়া ঢাকা শহরকে টিকিয়ে রাখতে ও নগর অধিবাসীদের সুস্বাস্থ্যের জন্য এখনই পরিবেশ ধুষণরোধে জরুরী পদক্ষেপ দরকার।