জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

এমন কি এ আর্টিকেলও বাতাসে কার্বন বাড়াচ্ছে

নাজিবুল্লাহ

২০ মিলিগ্রাম, গড়ে এ পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়, যখন আপনি এ প্রবন্ধের প্রথম দুটি শব্দ পাঠ করেন। এখন পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে আপনি কতোটা দ্রুত এ প্রবন্ধ পাঠ করছেন তার ওপর। আর তার ওপর নির্ভর করছে আপনি বাতাসে কতোটা কার্বন ছেড়ে পরিবেশ দূষিত করছেন। যদি দ্রুত পাঠ করেন তাহলে আপনি ৮০ মিলিগ্রামের মতো কার্বন বাতাসে ছেড়েছেন এমনকি তার পরিমাণ ১০০ মিলিগ্রাম হতে পারে। এ পুরো গল্পটি শেষ করে ওঠার পর আপনি হয়তো জানতেও পারবেন না আপনি বাতাসে কয়েক হাজার মিলিগ্রাম গ্রিনহাউস গ্যাস ছেড়ে দিয়েছেন। ড. আলেকজান্ডার উইসনার-গ্রস হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন পরিবেশবাদী বিজ্ঞানী। কম্পিউটার আমাদের পরিবেশের ওপর কতোটা প্রভাব তৈরি করে তিনি তার ওপর গবেষণা করছেন। তিনি বলেন, পরিমাণ হাজার হলেও আদতে বাতাসে যেটুকু মিশছে তা হয়তো অনেক বেশি নয়, কিন্তু যদি আপনি হিসাব করেন জগতের যতোগুলো লোক ওয়েবসাইটে ঢোকে তারা যে পরিমাণ কার্বন বাতাসে ছাড়ে তাহলে তার পরিমাণ অনেক বেশি। যদি আপনি যোগ করেন লোকজন কতো সেকেন্ড ওয়েবে সময় কাটাচ্ছে তাহলে আবিষ্কার করবেন কি বিপুল পরিমাণ গ্যাস প্রতিদিন বাতাসে মিশছে। উইসনার গ্রস হিসাব করে দেখেছেন যে, কেউ যদি কোনো এক সাধারণ ওয়েবসাইট ব্রাউজ করে তাহলে সে মোটামুটি প্রতি সেকেন্ডে ২০ মিলিগ্রাম কার্বন বাতাসে ছাড়ে। একটি গান নামানো, অথবা কোনো ই-মেইল পাঠানো, কিংবা ভিডিও দেখা যা কিছুই এ কম্পিউটার করে, যাকে আমরা ভার্চুয়াল জগৎ বলছি, সেখানে ঘটা কর্মকান্ড বাস্তব জগতের ওপর এক প্রভাব ফেলছে। গবেষকরা বলছেন, যেহেতু প্রতিবছর লাখ লাখ লোক অনলাইনে গিয়ে কাজ করে তাই এখন সুবজ ওরফে গ্রিন ইন্টারনেট ইকো সিস্টেম বা পরিবেশবান্ধব ইন্টারনেট পদ্ধতি দরকার। এটি কেবল প্রয়োজনীয় নয়, অতি দ্রুত প্রয়োজন। বৃটেনভিত্তিক এক পরিবেশ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট অ্যাকশন গ্রুপের গবেষক ক্রিস লার্জ বলেন, পুরো পরিবেশের টেকসই উন্নয়নে, ইন্টারনেট ও কম্পিউটারও একটা বিশাল অংশ। পরিবেশ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিপর্যয়কারী প্রভাব এড়ানোর জন্য আমাদের ১০ বছর ধরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা দরকার। কাজেই আমাদের এমন কিছু পদৰেপ নেয়া উচিত যা আসলেই কাজে আসবে। কিছু প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার ব্যবহারের কারণে তৈরি হওয়া শক্তির চাহিদার ওপর গবেষণা করেছে। যেমন উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ২০০৭ সালে গার্টনার নামের এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসাব করে দেখেছেন যে কেবল তথ্য প্রযুক্তিগত পণ্য উৎপাদন, ব্যবহার এবং তা নষ্ট করার সময়যে গ্রিনহাউস গ্যাস তৈরি হয় তা সারাবিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাসের দুই শতাংশ। সারা বিশ্বের বিমান সংস্থা এ পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস তৈরি করে। অ্যান্টি ভাইরাস সফটওয়ার ফার্ম ম্যাকাফির এক রিপোর্টে জানা যাচ্ছে সারাবছর প্রচুর পরিমাণ স্পাম বা অপ্রয়োজনীয় মেইল পাঠানো হয়। তার জন্য যে শক্তি খরচ হয় তা দিয়ে আমেরিকার দুই মিলিয়ন ঘরে সারাবছর প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে এবং তারা যে পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপন্ন করে তা তিন মিলিয়ন গাড়ি যে পরিমাণ গ্যাস তৈরি করে তার সমান। কানারিইর একটি ইন্টারনেট উন্নয়ন সংস্থা। এটি কানাডায় অবস্থিত। সেখানকার বিল সেন্ট আরনুদ বলেন, অনেক লোক এটা মানতে পারে না যে টেবিলের ওপর যে কম্পিউটার আছে তা বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী। এর শক্তি যদি কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে আসে তাহলে তা এতোটা কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন করে যতটা একটা স্পোর্টস কার প্রতিদিন তৈরি করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, এক দশকের মধ্যে ইন্টারনেট সারাবিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাসের ২০ শতাংশ উৎপন্ন করবে। যা আমাদের উন্নয়নকে ভুল দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ উন্নয়ন সম্পর্কে বলা যায়, এটি পরিষ্কারভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো উন্নয়ন নয়।