জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হিমালয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আইলা দুর্গতদের সাহায্যের আহ্বান জাতিসংঘের মাত্রাতিরিক্ত নদী দূষণের শিকার ঢাকার অন্তত চারটি নদী

আমারহেলথ ও বাপা আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা

ঢাকার পানি দূষণ প্রতিরোধে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরী

ঢাকার পানি দুষণ প্রতিরোধে মহাপরিকল্পনা গ্রহণের মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সামাজিক সচেতনতা সহ পানির অপচয় রোধ করে ও ঢাকাবাসীর স্বার্থে পানি দুষণ প্রতিরোধে  দল মত নির্বিশেষে জনসাধারণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। ১৫ মে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে হেলথ নিউজ পোর্টাল আমারহেলথ ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ঢাকার দূষিত পানি, বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য ও উত্তরণের উপায়’-শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ মতামত ব্যক্ত করেন। মতবিনিময় সভায় মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আমারহেলথ সম্পাদক ডা. অপূর্ব পন্ডিত ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ঢাকার পানি সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাই সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। একই সাথে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। এই সংকট সমাধানে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এক সময় বুড়িগঙ্গার পানিতে মাছ দেখতে পেতাম কিন্তু এখন শুধু দেখা যাচ্ছে কালো ময়লা আর পলিথিন। এই সমস্যা সমাধানে সরকবারের পাশাপাশি দল মত নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

বাপার সভাপতি অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, আইসিডিডিআর’বি-র সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এস কে রায়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ আইসিডিডিআর’বি-র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এমডি শাহাদাত হোসাইন। ডা. ওয়ানাইজার সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষক সৈয়দা ইসরাত নাজিয়া, ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সেলিনা পারভীন, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের ডা. বেলাল আহমেদ প্রমুখ।

অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ বলেন, ঢাকা শহরের সব এলাকায় ওয়াসা বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে না পারলেও নির্দিষ্ট কতগুলো এলাকায় বড় ট্যাংকিতে পানির ব্যবস্থা করতে পারে। এক্ষেত্রে যারা বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছেনা তারা বিশুদ্ধ পানি পাবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ করা দরকার। সরকারি পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া তা সম্ভব নয়। তিনি আর ও উল্লেখ করেন, ঢাকা শহরের শতকরা ৬৫ ভাগ বর্জ্যই শিল্প কারখানাগুলো থেকে নির্গত। অথচ এ বর্জ্য নির্গমনে এ মূহুর্তে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জরুরী। গৃহস্থালি বর্জ্যগুলোকে যাতে রিসাইক্লিং এর মাধ্যমে ব্যবহারে উপযোগী করা যায় সেদিকে নজর দেয়ারও মত প্রদান করেন তিনি।

 

আমারহেলথ সম্পাদক ডা: অপূর্ব পন্ডিত মুল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় বলেন, প্রতিবছর ওয়াসা দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি লিটার পরিমান পানির সংকট নিয়ে মৌসুম শুরু করে। বিদ্যুত সমস্যার ফলে ওয়াসার পানি উত্তোলনের এ মাত্রা প্রত্যাশিত মাত্রার চেয়েও অনেক কম হচ্ছে। ফলে নগরীর প্রায় অর্ধেক এলাকায় পানি মিলছে না। অন্যত্র যেটুকু মিলছে তাও নোংরা, বিষাক্ত ও দুর্গন্ধময় তথা পানের অযোগ্য। তাই অনতিবিলম্বে জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে পানি দষণ রোধে একটি সমন্বিত উদ্যোগ জরুরী।

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, আমাদের ভূ-উপরিভাগের পানি বিশুদ্ধকরন করা হলেও এতে অনেক সমস্যা আছে। কিন্তু মাটির নিচ থেকে যে পানি তোলা হয় তাতে সমস্যা থাকার কথা নয়। তবু্ও এ পানি দূষিত হচ্ছে পাইপলাইনের সমস্যা থেকে। ৪০-৫০বছর আগের এই পাইপলাইনের সংস্কার হওয়া প্রয়োজন।

দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছে আমাদের পুরো দেশটা জিম্মি। আবার এই ব্যবসায়ীদের চালাচ্ছেন রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ।  যতদিন পর্যন্ত এ নিয়ে শনির আখড়া ও কানসাটের মত আন্দোলন না হবে জনপ্রতিনিধিদের ধাওয়া না করা হবে,ততদিন সমস্যার সমাধান হবে না।