কম খরচে বাংলাদেশেই হচ্ছে নাকের কসমেটিক রাইনোপ্লাস্টি সার্জারী

কম খরচে বাংলাদেশেই হচ্ছে নাকের কসমেটিক রাইনোপ্লাস্টি সার্জারী
তানজিনা আক্তার দিপু

কসমেটিক সার্জারী মূলত প্লাস্টিক সার্জারীর অন্তর্ভুক্ত। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য যে সকল অপারেশন করা হয় তাই কসমেটিক সার্জারী। তাই রাইনোপ্লাস্টি বা নাকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এর অন্তর্ভুক্ত।

নাক কেটে যাওয়ার পর পুনর্গঠন বা Reconstructive Rhinoplasty থেকে রাইনোপ্লাস্টি বা নাকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির ইতিহাস শুরু হয়। সর্বপ্রথম ১৮৮৭ সালে নিউইয়র্কে এই অপারেশন করেন জন ওরলান্ডো রো। খ্রীষ্টপূর্ব ৬০০ সালে সুসরতা নামক জনৈক চিকিৎসক উপমহাদেশে এ অপারেশন চালু করেন।

কসমেটিক রাইনোপ্লাস্টি অগমেন্টেশন, রিডাকশন এবং টিপ রাইনোপ্লাস্টি এই তিন ভাগে বিভক্ত। বোচা বা ডেবে যাওয়া নাককে স্বাভাবিক করতে অগমেন্টেশন রাইনোপ্লাস্টি, বড় লম্বা নাককে ছেটে ছোট করতে রিডাকশন এবং নাকের প্রান্ত ঝুলে থাকা মাংস অপসারন বা গর্ত থেতে স্বভাবিক করতে টিপ রাইনোপ্লাস্টি করা হয় ।

নাকের সৌন্দর্য বর্ধনে কসমেটিক রাইনোপ্লাস্টি পদ্ধতির বিবর্তন ঘটেছে। উন্নত বিশ্বের পাশাপাশি আমাদের দেশেও এ অপারেশন করা হচ্ছে। যদি তরুণাস্থির সমস্যা থাকে তবে সেক্ষেত্রে কানের বা নাকেরই তরুণাস্থি ব্যবহার করে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। তাছাড়া হাড়ে সমস্যা থাকলে গ্রাফটিংয়ের জন্য শরীরের অন্যান্য অংশ যেমন-মাথার খুলির বাহিরের অংশ, হাতের বাহু বা বক্ষপিঞ্জর থেকে হাড় নেয়া হয়। ইদানিং কালে কৃত্রিম ইমপ্লান্ট এর জন্য অন্য প্রাণীর তরুণাস্থিও অনেক সময় ব্যবহার করা হয়। তবে যেভাবেই করা হোক অভিজ্ঞ প্লাস্টিক সার্জন দিয়ে করানো হলে এ অপারেশনে তেমন কোন জটিলতা দেখা না বরং সাফল্য শতভাগ। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে এই জটিল অপারেশনটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় খুব কম  খরচে আমাদের দেশে করা হয়। 

নাকের কসমেটিক রাইনোপ্লাস্টি করে উপকার পাওয়া শিমুল জানান, বছর তিনেক আগে এক অপারেশনের পর তার নাকের চেহারা পাল্টে যায়। স্বাভাবিকভাবে ভাবেই হারিয়ে যায় তার মুখের সৌন্দর্য। তার নাকের মাঝ বরাবর ডেবে গিয়েছিল। তাই তার নাকে অগমেন্টেশন অপারেশন করা হয়। তাকে অজ্ঞান করে কানের পিছন থেকে আবরণসহ তরুণাস্থি (কার্টিলেজ) পরিমাণ মত কেটে আনা হয়। এরপর ঐ কাটা অংশকে এমনভাবে কসমেটিক সেলাই দেয়া হয় যাতে স্বাভাবিক অবস্থায় কাটা দাগ বোঝা না যায়। কানের তরুণাস্থি নাকে এমনভাবে স্থাপন করা হয় যাতে নাকের ডেবে যাওয়া অংশ উপরে উঠে আসে এবং নাকের স্বাভাবিকতা ফিরে পায়। পাশাপাশি এটি খেয়াল রাখা হয় যে, রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাসে যেন কোন সমস্যা না হয়। এভাবে সফল কসমেটিক রাইনোপ্লাস্টির ফলে শিমুল ফিরে পায় তার নাকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য।

নাক, কান ও গলা বিশেষঞ্জ অধ্যাপক ডা: সাঈদ আহমেদ সিদ্দিকী বলেন- উন্নত বিশ্বের পাশাপাশি আমাদের দেশেও এ চিকিৎসা হচ্ছে। নাকের বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি সারিয়ে তোলার মাধ্যমে রোগীর আত্মবিশ্বাস যেমন চাঙ্গা হচ্ছে, তেমনি সামাজিকভাবেও অনেকের অবস্থান উন্নত হচ্ছে । নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে চেহারায়। অতএব নাকের সমস্যা নিয়ে অহেতুক ঘাবড়ানোর বা মন খারাপ করার কিছু নেই। নিকটস্থ প্লাস্টিক সার্জনের পরামর্শ নিন। তিনিই বাতলে দেবেন সমাধানের পথ।