রক্তের বদলে কাজ করে হিমোফার নতুন ওষুধ ডায়াবিনো ওষুধ প্রশাসনের বেহাল দশা

রিড ফার্মার পরিচালকের জামিন

 

২৫ এপ্রিল, আমার হেলথ: রিড ফার্মার মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমানকে ভেজাল ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের মামলা থেকে জামিন দিয়েছেন আদালত । ২৫ এপ্রিল রোববার ঢাকার ড্রাগ কোর্টের বিচারক আবদুল মজিদ জামিনের এ আদেশের পাশাপাশি, এ মামলায় পলাতক অন্য তিন আসামিকে আগামী ২৬ মে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন।

পলাতক ব্যক্তিরা হলেন রিড ফার্মার পরিচালক আবদুল গনি, ফার্মাসিস্ট মাহবুবুল ইসলাম ও এনামুল হক।

আসামিদের তৈরি করা ওষুধে শিশুদের কিডনি অকেজো হওয়ার প্রমাণ আপাতত পাওয়া যায়নি এবং আসামিদের তৈরি করা ওষুধে মানবদেহের ক্ষতি হয়েছে—এমন কোনো প্রতিবেদনও আসেনি বলে আদেশে বলা হয়।
আদেশে আরও বলা হয়, শুধু মানবহির্ভূত ওষুধ উৎপাদনের কারণে এই আসামিকে অনেক দিন হাজতে রাখার যুক্তি নেই—এই বিবেচনায় আদালত মিজানুর রহমানকে জামিন দেন।

বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস সোসাইট’র সভাপতি অধ্যাপক আ.ব.ম ফারুক রিড ফার্মার এমডির জামিন পাওয়াকে বিস্ময়কর বলে অভিহিত করে বলেন, ভেজাল ওষুধের কারনে শিশু মৃত্যুরমত মারাত্বক ঘটনাও আদালতে প্রমান করতে না পারা দুঃখজনক,এইভাবে অপরাধীরা জামিনে মুক্তি পেলে অপরাধকে উৎসাহিত করা হয়। ১৯৯২ সালে একইভাবে প্যারাসিটামল ওষুধ কেলেঙ্কারীর বিচার আজও নিস্পত্তি হয়নি।

উল্লেখ্য, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন ও তা বাজারজাত করার অভিযোগে গত বছরের ১০ আগস্ট ওষুধ প্রশাসন পরিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক শফিকুল ইসলাম রিড ফার্মার পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরের দিন আদালত প্রতিষ্ঠানের মালিক মিজানুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

গত বছরের জুন, জুলাই ও আগস্টে ২৭ শিশুর মৃত্যু হয়। রিড ফার্মা উৎপাদিত প্যারাসিটামল সিরাপ টেমসেট খেয়ে এসব শিশু মারা যায়, এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। ড্রাগ টেস্টিংয়ে রিড ফার্মার টেমসেটে বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তা ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির প্যারাসিটামল সিরাপ তৈরির অনুমতি ছিল না।

আগের পাতা