রক্তের বদলে কাজ করে হিমোফার নতুন ওষুধ ডায়াবিনো ওষুধ প্রশাসনের বেহাল দশা

শক্তিশালী করা হচ্ছে ওষুধ প্রশাসন

 

 

ইমান উদ্দিন ইমন

নকল ও ভেজাল ওষুধ প্রতিরোধে এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধের গুণগতমান বাড়াতে দেশের ৬৪ জেলায় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কার্যালয় চালু করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে জেলায় জেলায় নতুন করে ড্রাগ সুপার নিয়োগসহ শূন্যপদে নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ও বিভাগীয় শহরের বাইরে ৪০ জেলায় জোড়াতালি দিয়ে ওষুধ প্রশাসনের কার্যক্রম চলছে। একজন ড্রাগ সুপার একইসঙ্গে ৩/৪ জেলার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অনেক জেলায় ওষুধ প্রশাসনের কোন অফিসও নেই। আবার কোন কোন জেলায় অফিস থাকলেও সেখানে একজন স্টাফ দিয়ে অফিস চলছে। ওষুধ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, ৬৪ জেলার মধ্যে মাত্র ২৪ জেলায় ওষুধ প্রশাসনের অফিস আছে। সরকারিভাবে একমাত্র চট্রগ্রামে ওষুধ প্রশাসনের নিজস্ব অফিস আছে। তবে পর্যাপ্ত যানবাহনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা না থাকায় এ কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে স্থবিরতা বিরাজ করছে। আর এ কারণেই জেলায় জেলায় নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বেশি বিক্রি হচ্ছে। সেখানে ওষুধের দোকান তদারকির কোন ব্যবস্থা নেই। বড় ধরনের কোন অভিযোগ থাকলে কয়েকমাস পরপর ১ জন ড্রাগসুপার ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ খবর নেন।

বছরের পর বছর জোড়াতালি দিয়ে চলা ওষুধ প্রশাসন সর্বশেষ গত ১৭ জানুয়ারি অধিদপ্তরকে উন্নীত করার পর নতুন করে দেশের ৬৪ জেলায় ওষুধ প্রশাসনের অফিস খোলার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি ওষুধ প্রশাসন মতিঝিলস্থ প্রধান কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ৬৪ জেলার অফিস করার লিখিত আবেদন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছে ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওষুধ প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলায় জেলায় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অফিসসহ সব সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হলে নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি বন্ধ হবে। ওষুধের গুণগতমান বাড়বে এবং রোগীরা উপকৃত হবে।
এছাড়া ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নতুন করে বিভিন্ন শূন্যপদে লোক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকবছর ধরে ওষুধ প্রশাসনে নিয়োগ বিধি না মেনে প্রেষণে দলীয় বিবেচনায় অন্য সংস্থার লোক নিয়োগ দেয়ার কারণে ওষুধ প্রশাসনের কর্মরত ওষুধ বিশেষজ্ঞরা ক্ষুব্ধ। তারা নিয়োগ বিধির ভিত্তিতে লোক নিয়োগ এবং ড্রাগ সুপারসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পদোন্নতির দাবি করছেন।
এ ব্যাপারে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের দায়িত্ব প্রাপ্ত ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল হোসেন জানান, নতুন অধিদপ্তরের জন্য বাজেট বরাদ্ধ, জেলায় জেলায় অফিস চালু করার জন্য সরকারি জায়গা বা অফিস করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। অফিস করার জায়গা পাওয়া গেলে অফিস নিয়ে কার্যক্রম চালু করা হবে। এ লক্ষ্যে কাজ চলছে। নকল ও ভেজাল ওষুধ প্রতিরোধে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। লোক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা  গাইডলাইন অনুযায়ী ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে জনবল আরও বৃদ্ধি করা দরকার। দেশের ওষুধের গুণগতমান বাড়লে বিদেশে ওষুধ রপ্তানীও বাড়বে।

আগের পাতা