
আমারহেলথ (২০ফেব্রুয়ারী, রবিবার): ওষুধ শিল্পে বিরাজমান সমস্যা ও আইনি প্রতিবন্ধকতা দূর করা দরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে যাবতীয় সমস্যা থেকে উত্তরণের মাধ্যমে দেশে উৎপাদিত ওষুধ রপ্তানি করে ২০১৫ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার বা ৩৫ হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। একইসাথে ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘ওষুধ শিল্পপার্ক’ স্থাপনের বিকল্প নেই।
দিন দিন বাংলাদেশের ওষুধের বাজার আরো সম্প্রসারিত হচ্ছে। দেশে উৎপাদিত ওষুধ এবার আফ্রিকা, এশিয়ার বাজার ছাড়িয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় রপ্তানি হবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি বেক্সিমকো, স্কয়ার ও ইনসেপ্টা আমেরিকায় ওষুধ রপ্তানির জন্য নিবন্ধন পাওয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এর মধ্যে ইনসেপ্টা ও স্কয়ারের খুব শিগগিরই নিবন্ধন পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সৌদি আরব, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে খুব শিগগির লাইসেন্স পেতে যাচ্ছে এসব শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি।
ওষুধ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, এই মুহূর্তে আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোতে বাংলাদেশের ওষুধের অন্তত ৫ হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে। এখন বিশ্বের ৮০টি দেশে এ দেশের ওষুধ রপ্তানি হয়ে থাকে।
ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের বাজার ধরতে পারলে আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার বা ৩৫ হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব।
ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব ও ইনসেপ্টার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মোক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু আইনি ও নীতিগত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এগুলো দূর করতে পারলে বিশ্ববাজারে ওষুধ রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। সরকারি সহায়তা পেলে এ বাজার ২০ গুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ জন্য যত দ্রুত সম্ভব ‘অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যালস ইনগ্রেডিয়েন্ট’ বা এপিআই শিল্পপার্ক স্থাপন করতে হবে। ইতিমধ্যে ঢাকার অদূরে গজারিয়ায় এজন্য ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এ পার্ক স্থাপন করা হলে ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদিত হবে, আগামীতে ওষুধ রপ্তানি আরো বাড়বে।
২০০৯-১০ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ২০০৮-০৯ সালে ছিল ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৭০ হাজার ডলারের সমান। চলতি অর্থবছরের (২০১০-১১) জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এ খাতে রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার ডলার, যা এই সময়ের টার্গেটের চেয়ে দশমিক ৬৩ ভাগ বেশি।
ওষুধ শিল্পের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে ওষুধ শিল্পের ৭০ শতাংশ কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হচ্ছে। তাই মূল্যবান এ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে হলে প্রস্তাবিত কাঁচামাল উৎপাদনের শিল্পপার্ক নির্মাণে হাত দিতে হবে। |