রক্তের বদলে কাজ করে হিমোফার নতুন ওষুধ ডায়াবিনো ওষুধ প্রশাসনের বেহাল দশা

বিশ্বমানসম্পন্ন ওষুধ উপাদনে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস

 

 

ফয়সাল আকবর, ইমান উদ্দিন ইমন

রোগমুক্তি থেকে প্রতিদিনের বেঁচে থাকায় ওষুধের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আর বর্তমানে বাংলাদেশে এ ওষুধ একদিকে যেমন কোটি মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছে তেমনি অপরদিকে কিছু মুনাফালোভী  ওষুধ কোম্পানি কেড়ে নিচ্ছে অসংখ্য মানুষের জীবন। কিছুদিন আগেও দেশীয় ওষুধের প্রতি আস্থাতো দূরের কথা, ভাল ওষুধ মানেই বিদেশী ওষুধ এরকম প্রচার ছিল। দেশীয় ওষুধ আজ দেশের চাহিদা প্রায় পুরোটা পূর্ণ করে বহির্বিশ্বের মানুষের বিশ্বাস আর আস্থা অর্জন করেছে। একঝাঁক দক্ষ জনশক্তির অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসেবে ওষুধ শিল্পের এই অর্জন আমাদের দেশের এক অনন্য গৌরবের ইতিহাস। দেশীয় কিছু ওষুধ কোম্পানীর কোয়ালিটি প্রোডাক্‌শানের ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। যার মধ্যে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস অন্যতম। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ জনশক্তি, গুনগত মানসম্পন্ন কাঁচামালের ব্যবহার ও আধুনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পপুলার উৎপাদন করছে বিশ্বমানের ওষুধ। গুনগত মান নিশ্চিত করে ওষুধ উৎপাদন করাই হল পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস এর মূল লক্ষ্য। পুরো বিশ্বের উৎপাদিত সকল ওষুধের গুনগত ও পরিমানগত মান নির্ধারণের জন্য রয়েছে WHO-cGMP নীতি মালা। এই নীতি মালার আলোকে প্রতিটি ফার্মাসিউটিক্যালস উৎপাদিত পন্যের মান নিশ্চিত করে। এ নীতিমালা বাস্তবায়নে পপুলারে রয়েছে কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগ ও প্রেডাকশন ডেভেলপমেন্ট বিভাগ। এই দুটি বিভাগের মাধ্যমে উৎপাদিত ওষুধের গুনগত ও পরিমানগত মান যাচাই করা হয়। পপুলার সূত্র জানায়, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের কোয়ালিটি কন্ট্রোল ও কোয়ালিটি প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট-এ ৪৬ জন ফার্মাসিস্ট নিয়মিত কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্রিটিশ ফার্মাকোপিয়ার ও ইউরোপিয়ান ফার্মাকোপিয়ার স্ট্যান্ডার্ড ফর্মূলেশন এর সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করছে। একইসাথে পপুলার ফার্মা ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, লিকুইড, অয়েন্টমেন্ট, ইনফিউশন  প্রভৃতি উৎপাদনে ICH এর নিয়মানুযায়ী ২৫ডিগ্রি সেঃ তাপমাত্রায় ৬০%, ৩০ডিগ্রি সেঃ তাপমাত্রায় ৬৫% , ৪০ ডিগ্রি সেঃ তাপমাত্রায় ৭৫% উৎপাদন নীতি অনুসরণ করে। পপুলার সুত্র আরো জানায়, বর্তমানে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস বহির্বিশ্বে কেনিয়া, নাইজেরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেনসহ সহ ৮টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে। ওষুধের গুনগত  মান  সম্পর্কে কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স বিভাগের প্রধান এম আখতারুজ্জামান  জানান, নতুন কোন পন্য উৎপাদনের পূর্বে পপুলার ফার্মা এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর  গবেষনামূলক ও পরীক্ষামূলক একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়। পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের পর প্রডাকশন ডেভলপমেন্ট বিভাগ কর্র্তৃক অনুমোদিত হয়। তারপর চূড়ান্ত ভাবে পন্যের উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা হয়।  পণ্যের গুনগত ও পরিমানগত মান নিশ্চিতকরণে কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স বিভাগের মাধ্যমে তা সর্বদা তদারকি করা হয়। এভাবে সুক্ষভাবে ও ধাপে ধাপে ওষুধের গুনাগুন নিশ্চিত করা হয়। তিনি আরও বলেন- সঠিক পদ্ধতির মাধ্যমে, উন্নত ও গুনগত কাঁচামাল ব্যাবহার, কার্যকর যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যাবহারে মানসম্পন্ন ওষুধ নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে পপুলারের রয়েছে নিবিড় মনোযোগ।
সরেজমিনে দেখা যায় প্রডাকশন ডেভলপমেন্ট বিভাগে পাঁচটি HPLC , ১টি রেজ্যুলেশন টেস্টার, ১টি ডিজএন্টিগ্রেশন টেস্টারের মাধ্যমে পন্যের উৎপাদনের সঠিক পরিমান ও গুনাগুন পরিমাপ করা হয়। কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগের কেমিক্যাল ল্যাবে ১৯ জন ফার্মাসিষ্ট রয়েছে। এরা অটোমেটিক এবজর্বশান, আই আর স্প্যাক্ট্রো ফটোমিটার ও তিনটি ডিজুল্যশন অপারেটর এর মাধ্যমে উৎপাদিত ওষুধের গুনাগন বিশ্লেষন ও নিশ্চিত করছে। এছাড়া মাইক্রো-বায়োলজী ল্যাবে ৩ জন ফার্মাসিস্ট, ৪টি ইন্টিগ্রেটর মেশিন, ২টি অটোক্ল্যাভার ও দুইটি মাইক্রোস্কোপ  রয়েছে। ওরাল,সলিড ম্যানুফ্যাকচার এ ঘুরে দেখা যায় সিরাপ ও কাঁচামালের গুনাগুন পরিশুদ্ধকরনে পাঁচটি ম্যনুফ্যাচারাল ভ্যাসেল ব্যবহৃত হচ্ছে। অয়েনমেন্ট, ক্রিম, লিকুইড ইত্যাদির জন্য রয়েছে  জার্মানি প্রযুক্তির ফার্মাল্যাব। এছাড়া এ ল্যাবে রয়েছে দুটি গ্র্যাসুলেটর, একটি কসমিক ব্ল্যান্ডার, ২ টি গ্রানুলাটর ও একটি 3D  ক্ষমতা সম্পন্ন কমেপ্রশন মেশিন। পপুলার ফার্মসিউটিক্যালস’র গুরুত্বপূর্ন অংশ ইনফিউশন বিভাগে একটি ৩৫০০০ লিটার ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন ভেসেল সহ  একটি প্লামেট অটোক্লেভ ও স্টেরিলাইজার রয়েছে।
পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালে সেফালোস্পোরিন নামে রয়েছে একটি আলাদা বিভাগ। এ বিভাগে এন্টিবায়োটিক ওষুধ তৈরীর জন্য অত্যাধুনিক ম্যাকোফার মেশিন ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ফার্মার আরেকটি গুরুত্বপূর্ন বিভাগ স্টেরিলিটি বিভাগ। এ বিভাগে ইনসুলিন, ইনজেকশন IV/IM ইত্যাদির জন্য  Yan chang ম্যানুফ্যাকচার ভ্যাসেল, ঋইউ ম্যানুফ্যাকচার ভেসেল সহ রয়েছে তিনটি স্টেরিলাইজার। এসব আলাদা বিভাগ ও উন্নত যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস গুনগত ও মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন করছে। যার প্রমাণ পাওয়া যায় পপুলার উৎপাদিত ইনসুলিনে যা WHO Accrediated Lab কর্তৃক পরীক্ষিত এবং প্রমানিত। ফলে একসময় যেখানে বাংলাদেশকে প্রতি বছর ১০০ কোটি টাকার ইনসুলিন আমদনি করতে হত তা বর্তমানে অনেকখানি কমে এসেছে। এছাড়া এমাইনো এসিড, ফ্যাটিসল, প্রোপোল ইত্যাদি প্রতিষেধক পপুলারই প্রথম বাজারে আনে যা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরনে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখছে। পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অপারেশন’শ ডিরেক্টর ড.এম এ মালেক বলেন, ওষুধের গুনগত মান নিশ্চিত করাটাই পপুলার ফার্মার প্রধান  কাজ, একইসাথে দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সার, এইডসসহ কিডনীর জটিল রোগ প্রভৃতির প্রতিষেধক উৎপাদনে পপুলারের প্রচেষ্টা রয়েছে। বর্তমানে এ ফার্মাসিউটিক্যালস প্রায় ২৫০ ধরনের ওষুধ উৎপাদন করছে যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকারের ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, সিরাপ, সাসপেনসন, অয়েন্টমেন্ট, ইনজেকশন, ইনসুলিন, ড্রপস, ইনফিউশন। এসব ওষুধ উৎপাদনে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস WHO-cGMP নীতিমালাসহ ব্রিটিশ ফার্মাকোপিয়ার মান নিশ্চিত করছে। ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করা পপুলার ফার্মা ওষুধের গুনগত মান নিশ্চিতকরনের ফলে  বিশ্ব ওষুধ শিল্পের চাহিদায়  বাংলাদেশ রাখছে এক উল্লেখযোগ্য ভুমিকা। ভবিষ্যতে আসছে Vaccine এবং Vaccine উৎপাদনে বাংলাদেশের এমন কারখানা হবে যা Panta Valant Vaccine উৎপাদন করবে এবং হাজার শিশুর জীবন বাঁচাবে।
সম্পাদনা: ডা.অপূর্ব পন্ডিত

আগের পাতা