ইমান উদ্দিন ইমন: বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টর অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর, যা কিনা আমাদের দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। মূলত ১৯৮২ সালে ড্রাগ অডিন্যান্স জারির পর এই সেক্টর এ বিপুল উন্নয়ন সাধিত হয়। বর্তমানে স্থানীয় বাজারের শতকরা ৯৭ ভাগ ওষুধের চাহিদা পূরণ করে চলছে আমাদের দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীগুলো। এছাড়া বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধ বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। আর ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিতে ওষুধ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ফার্মাসিস্টের, যার ফলে বেড়ে যাচ্ছে পেশাদার ফার্মাসিস্টের চাহিদা।
বাংলাদেশে স্নাতক পর্যায়ে ফার্মেসী শিক্ষা সর্ব প্রথম চালু হয় ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসী ডিপার্টমেন্ট প্রতিষ্ঠা করে এদেশে এক নতুন ধারার পেশাভিত্তিক শিক্ষার যুগোপযোগী বিষয়ের আর্বিভাব ঘটায়। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগ পরবর্তীতে তিনটি বিভাগে বিভক্ত হয় এবং গড়ে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসী অনুষদ হিসেবে। তারপর প্রায় ২৩ বছর আর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে কোন প্রোগ্রাম চালু হয়নি। ১৯৮৭ সালে জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসীতে স্নাতক কোর্স চালু হয়।
বর্তমানে আমাদের দেশে ফার্মেসী কাউন্সিলের স্বীকৃতি প্রাপ্ত ৪ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ১১ টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে ব্যাচেলর অব ফার্মেসী ডিগ্রী গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া আরও দুটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বি. ফার্ম প্রোগ্রাম চালুর প্রাথমিক অনুমতি রয়েছে। এত অল্প সংখ্যক স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফার্মেসী বিভাগ চালু থাকায় ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠান গুলোতে দক্ষ ফার্মাসিস্টের চাহিদা পূরন করতে পারছেনা। এছাড়া কিছু কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী বিভাগ চালু থাকলেও তাদের শিক্ষার মান খুবই খারাপ। যার ফলে দক্ষ ফার্মাসিস্টের অভাব দেখা দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। এদিকে বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাদের রেজিস্টারড অনুযায়ী বাংলাদেশে ২৩০০ ফার্মেসী গ্র্যাজুআট রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১০০০ জন আমাদের দেশের বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীতে কর্মরত আছে। আর বাকী প্রায় ১৩০০ জন ফার্মাসিস্ট অধিক সুযোগ সুবিধা পাওয়ার জন্য বিদেশে কাজ করছে। সুযোগ সুবিধার অভাবে অনেক দক্ষ ফার্মাসিস্ট বিদেশে চলে যাচ্ছে। ফলে দেশে দক্ষ ফার্মাসিস্টের সংকট দেখা দিচ্ছে।
ফার্মেসী কাউন্সিলের ডেপুটি সেক্রেটারী ড. লিয়াকত আলী চৌধুরীর কাছে জানতে চাওয়া হয় দেশে দক্ষ ফার্মাসিস্টের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে কেন? তিনি বলেন, অন্যান্য উন্নত দেশের চেয়ে আমাদের দেশে ফার্মাসিস্টদের কদর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারন, আগের তুলনায় এখন অনেক বেশী ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি হয়েছে, এই সেক্টর বর্তমানে বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ন সেক্টর এবং দিনের পর দিন এ সেক্টরের এরিয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে ফার্মাসিস্টেদের চাহিদা আগের তূলনায় এখন অনেক বেশী। এছাড়া তিনি দেশে ফার্মাসিস্টের চাহিদা বৃদ্ধি হওয়ার আরও একটি কারন উল্লেখ করেন, সেটি হচ্ছে অধিক সুযোগ সুবিধা লাভের জন্য দক্ষ ফার্মাসিস্টদের বিদেশে চলে যাওয়া।
|