
ইমান উদ্দিন ইমন,আমারহেলথ (২১ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার):প্রায় প্রত্যেকটি জেলা হাসপাতালে জেনারেল মেডিসিন, সার্জারি, প্রেডিয়াট্রিক বিভাগের প্রায় ৯০ শতাংশ রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকও।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে রোগের চিকিৎসার সময়কাল বাড়ছে। চিকিৎসার প্রতি অসন্তুষ্টি সৃষ্টি হচ্ছে রোগীর। বাংলাদেশের জেলা হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ওপর চালানো এক গবেষণায় এই চিত্র উঠে আসে।
গবেষণাটি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফামের্সি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগ এবং নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ফার্মেসি বিভাগ।
তারা দেশের খুলনা, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, সাতক্ষীরা এবং লক্ষ্মীপুর জেলা হাসপাতালের ওপর জরিপ চালিয়ে এই তথ্য তুলে ধরে।
২১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অব এক্সিলেন্স ভবনে এ গবেষণা জরিপের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
গবেষণায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার(ডব্লিউএইচও) উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, সারা বিশ্বে যে পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হচ্ছে তার ৫০ শতাংশই অযৌক্তিক। আর সেখানে বাংলাদেশে এই হার ৯০ শতাংশ।
গবেষণাটি বলছে, ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের ওপর এর অংশের সংক্রমণ, যেকোন অস্ত্রোপচারের আগে, নিউমোনিয়া, সড়ক দূর্ঘটনা আহতদের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর ফলে আরোগ্য না হওয়া, চিকিৎসার সময়কাল বেড়ে যাওয়া, রোগীকে বেশি দিন হাসপাতালে থাকাসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ কারণে চিকিৎসা-ব্যবস্থার প্রতি রোগীদের অসন্তুষ্টি বাড়ছে বলেও গবেষণায় বলা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদদপ্তরের সহযোগিতায় ঢাকাস্থ ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইন্সপায়ারের আওতায় অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করা হয়।
গবেষণা প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত, মেডিকেল অনুষদের ডিন এ বি এম আবদুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইসমাইল খান। |