দেশের সব খবর আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যালস আমার বিনোদন বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার

তামাকের কারণে বছরে মৃত্যু ৫৭ হাজার: নিয়ন্ত্রণে সহজলভ্যতা দূর করা জরুরী

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

নাজিবুল্লাহ: তামাক সেবনের কারণে প্রতিবছর ৫৭ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করছে এবং প্রায় ৪ লক্ষ মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করছে। এছাড়া ১২ লক্ষ মানুষ ৮টি ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তামাকের সহজ প্রাপ্যতা এর জন্য দায়ী। এজন্য তামাকজাত দ্রব্যের দাম বাড়াতে হবে। গত ২৩ মে সকাল সাড়ে ১১ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট কর্তৃক আয়োজিত “বাংলাদেশের তামাক নিয়ন্ত্রণের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও করণীয়” শীর্ষক গোলটবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞগন এসব কথা বলেন।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন এর চেয়ারম্যান আবু নাসের খান এর সভাপতিত্বে সভায় আলোচনা করেন সাবেক আইজিপি ড. এনামূল হক, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ ওবাদুল্লাহ বাকী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব রফিকুল ইসলাম সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ড. মোস্তফা জামান প্রমুখ। জোট এর দাপ্তরিক সচিব সৈয়দ মাহবুবুল আলম এর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রত্যাশা-এর সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ, প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিরাপদ-এর চেয়ারম্যান ইবনুল সাইদ রানা।

বক্তারা বলেন, জনগণের মধ্যে তামাকের ক্ষতিকর দিক ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু জর্দা, গুল, সাদাপাতা, বিড়ি, সিগারেট এর দাম কম এবং সহজলভ্য হওয়ায় মানুষের মধ্যে সেবনের হার আশানুরূপ কমছে না। যে কারণে বাংলাদেশে তামাকজনিত ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। জর্দা, গুল, সাদাপাতা সেবন ধূমপানের মতই ক্যান্সার, যক্ষা, হৃদরোগ, হাঁপানি, স্ট্রোক এর ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। কিন্তু তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে এসব ক্ষতিকর দ্রব্য অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। দেশে তামাক নিয়ন্ত্রন হলে ১৮.৭ ভাগ চাকুরি বৃদ্ধি পাবে।

ড. এম এনামূল হক বলেন, তামাক বিরোধী সচেতনতা ও কার্যক্রম পরিবার থেকে শুরু করতে হবে। মায়েদের সুস্থ্য রাখতে তামাকের ব্যবহার ও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে দূরে রাখতে হবে। পাশাপাশি এগুলো যেন সহজলভ্য না হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, সরকার সবসময়ই জনস্বাস্থ্য উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়। তামাক যেহেতু মানুষের মৃত্যু ডেকে আনে, সেহেতু সরকার জনস্বার্থেই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন করেছে। ইতোমধ্যে এ আইনকে আরও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারী গণমাধ্যম বিটিভি, বেতার ও বেসরকারী প্রচার মাধ্যমে তামাকের ক্ষতিকর বিষয়ে প্রচারণা বাড়াতে হবে।

ড. মোস্তফা জামান বলেন, মানুষকে ঘিরেই বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। কিন্তু ধূমপানসহ তামাক সেবন একদিকে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে অন্যদিকে এর মাধ্যমেই মানুষ অন্যান্য নেশায় ধাবিত হচ্ছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের কোন বিকল্প নাই।

সভাপতির বক্তব্যে আবু নাসের খান বলেন, খাদ্যের জমিতে তামাক চাষ খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এছাড়া কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য সকল তামাককে আইন ও করে আওতায় আনতে হবে।