দেশের সব খবর আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যালস আমার বিনোদন বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস : প্রতি বছর কেবল যুক্তরাষ্টেই মারা যায় পাচ লাখ

মানুষ হাসান শাহরিয়ার: ৩১ মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। প্রতিবারের মত এবারেও সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশে ও বিভিন্ন কর্মসুচীর মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে। এ লক্ষ্যে সরকারী এবং বেসরকারী ভাবে বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক নানা বিধ কর্মসুচী গ্রহন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবিকই বিশ্বব্যাপী তামাক গ্রহণের মাত্রা ক্রমশ বেড়েই চলেছে।পরিণতিতে লাখ লাখ মানুষ প্রতিনিয়ত মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে খোদ যুক্তরাষ্টেই প্রতিবছর ৫ লাখ মানুষ মারা যায় তামাক সেবনে।আর বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলোতে এ সমস্যার শেকড় ও অত্যন্ত গভীরে। তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত বিশ্বব্যাপী গৃহীত হচ্ছে নানা কর্মসূচী সহ আইন গত প্রচেষ্টাও। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ সরকার ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। জনাকীর্ণ স্থান এবং পাবলিক পরিবহনে ধুমপান সম্পর্ণু নিষিদ্ধ করা হয়। যদিও প্রত্যাশা ছিল আইনের প্রয়োগের ফলে বাংলাদেশে এটি তামাক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব বয়ে নিয়ে আসবে। আইনগত জটিলতা, আইনের ত্রুটি, এবং তুলনামুলক ভাবে শাস্তির বিধান কম হওয়ায় প্রায়শই দেখা যাচ্ছে এ আইনের লঙ্ঘন। কার্যত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যারাও হর হামেশা জনাসমাগম স্থল গুলোতে প্রকাশ্য ধুমপান করছেন। বেসরকারী সংস্থাগুলোর হিসেব অনুযায়ী ধূমপায়ীদের শতকরা ৫০ ভাগ ধূমপানজনিত জটিলতায় মারা যায়। তাছাড়া অধূমপায়ীর তুলনায় ধূমপায়ীর মৃত্যুর ঝুঁকি শতকরা ৭০ ভাগ বেশি এবং ধূমপানজনিত কারণে কম বয়সীরা বয়স্কদের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। ধূমপায়ী ব্যক্তি অধূমপায়ীদের তুলনায় বেশি শারীরিক অক্ষমতায় ভোগে এবং কাজকর্মে অমনোযোগী থাকে। ধূমপানের ফলে ফুসফুসের রোগ, শ্বাসনালি, মুখগহ্বর, নাকবিবর, সাইনাস, খাদ্যনালি, পাকস্থলী, যকৃৎ, বক্ষ, মূত্রথলি, মূত্রনালির বিভিন্ন রোগ হতে পারে। এ ছাড়া মাইলয়েড লিউকেমিয়ার (রক্তের একধরনের ক্যান্সার) মতো জীবনধ্বংসকারী রোগও হতে পারে। ধূমপান হলো ক্যান্সার আক্রান্ত মৃত্যুর মধ্যে প্রধানতম কারণ। বিড়ি বা সিগারেট খাওয়ার কারনে, ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ১০ গুণ বেড়ে যায়। তবে যে ব্যক্তি দিনে দুই প্যাকেট বিড়ি বা সিগারেট খায়, তার ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুকি প্রায় ২৫ গুণ। এ ছাড়া ধূমপান শ্বাসনালির দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের (সিওপিডি) অন্যতম প্রধান কারণ। সিওপিডির কারণে একজন ধূমপায়ীর মৃত্যুঝুঁকি অধূমপায়ীদের তুলনায় ২৫ গুণ বেশি। যারা হাঁপানিতে আক্রান্ত ও ধূমপায়ী, তাদের ক্ষেত্রে ওষুধের কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং তারা চিকিৎসার সুফল থেকে বঞ্চিত হয়। ধূমপায়ীরা গ্যাস্ট্রিক আলসার ও ডিওডেনাল আলসার থেকে ও মুক্ত নয়। ধূমপানের ফলে আলসারের স্বাভাবিক প্রশমন বাধা পায়। এ ছাড়া ধূমপায়ীদের শরীরে নিকোটিনের প্রভাবে ওষুধের কার্যক্ষমতাও কমে যায়। ফলে এসব রোগ সেরে গেলেও পরে তা বারবার হওয়ার আশঙ্কা অধূমপায়ীদের তুলনায় অনেক বেশি। এ ছাড়া ধূমপায়ীদের অর্কিওপোরেসিস হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এছাড়া ধূমপায়ীরা অধুমপায়ীর চেয়ে বেশি বিষণ্নতায় ভোগে। ধূমপান করোনারি হৃদরোগের একটি অন্যতম প্রধান কারণ। অধূমপায়ীর তুলনায় ধূমপায়ী রক্তনালির জটিলতার শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ বেশি ভুগে থাকে। যেসব হৃদরোগ থেকে হঠাৎ মৃত্যু হতে পারে, তাদের ক্ষেত্রে অল্পবয়সী ধূমপায়ীরা অধূমপায়ীদের তুলনায় থেকে চার গুণ বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। একবার হৃৎপিণ্ডজনিত বুকের ব্যথায় (এমআই) আক্রান্ত হওয়ার পরও যারা ধূমপান ছাড়ে না, তারা ধূমপান ছেড়ে দেওয়া রোগীদের চেয়ে ১০ গুণ বেশি মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে থাকে। ধূমপানকে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের (স্ট্রোক) একটি প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হয় চিকিৎসা বিজ্ঞানে।