আমারহেলথ (০৮ আগস্ট, রবিবার): পরোক্ষ ধূমপান থেকে নারীদের রক্ষায় কর্মক্ষেত্র, রেষ্টুরেন্টসহ সকল জনসমাগমসস্থলকে শতভাগ ধূমপানমুক্ত করতে হবে। কিন্তু এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনা। তাছাড়া তামাকজাত দ্রব্যের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ থাকলেও বিড়ি সিগারেটের বহুজাতিক কোম্পানিগুলো সুচতুরভাবে পরোক্ষ বিজ্ঞাপন চালিয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট, নাটাব, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট আয়োজিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন উন্নয়ন ও বর্তমান প্রেক্ষিত- শীর্ষক সেমিনারে এ মতামত জানানো হয়।
নাটাব-এর সহসভাপতি বিশিস্ট সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোজাফফর হোসেন পল্টুর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমেদ, বিশেষ অতিথি উপসস্থিত ছিলেন ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এমপি। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জোটের উপদেষ্টা পরিবেশবিদ আবু নাসের খান, উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আক্তার।
আইন মন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমেদ বলেন, আইনটির কার্যকর বাস্তবায়নে কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পরিধি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, যাতে আইনভঙ্গের প্রেক্ষিতে মানুষ সহজে প্রতিকার পায়। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, পুলিশ কর্মকর্তা এবং প্রতিটি স্থানভেদে আইনটি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মকর্তা থাকা প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিদ্যমান আইনের অনেক ইতিবাচক দিক থাকলেও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে আইনটি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। জর্দ্দা,গুল, সাদাপাতার মতো চর্বণযোগ্য তামাককে তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞায় নিয়ে আসা হয়নি। এছাড়া আইনটিতে ধূমপানমুক্ত রাখতে কোন ধরনের বাধ্যকতা না থাকায় আইন কার্যকর বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ থাকলেও তামাক কোম্পানিগুলো সুচতুরভাবে পরোক্ষ বিজ্ঞাপন চালিয়ে যাচ্ছে। কার্যক্রম এবং পরোক্ষ বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের পাশাপাশি তামাকজাত দ্রব্যেরে মোড়কে সচিত্র চিত্র প্রদানের সুপারিশ করা হয়।
উক্ত সভায় পরিবেশবিদ, আইনজীবী, তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মী, স্বাস্থ্য অধিকার কর্মী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
|