বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় যে কয়টি এনজিও সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে তাঁদের মধ্যে সোস্যাল মার্কেটিং কোম্পাণী(এসএমসি) অন্যতম। অতি দুর্বল ও সুবিধা বঞ্চিতদের হাতের নাগালে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দেশী বিদেশী দাতা গোষ্ঠীর সাথে কাজ করছে কল্যাণমূলক এই সংস্থাটি। এসএমসি মূলত যে তিনটি খাত নিয়ে কাজ করছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচী, শিশু স্বাস্থ্য, যৌন বাহিত রোগও এইচআইভি প্রতিরোধ। এইচআইভি এইডস ও সকল ধরনের যৌন বাহিত রোগ প্রতিরোধে সুরক্ষা নামে একটি শ্লোগান চালু করেছে এসএমসি। শ্লোগানটির মূল লক্ষ হলো সব রকমের যৌন বাহিত রোগ শোকের ব্যাপরে জনগনকে সচেতন করা। পাশাপাশি কনডম ব্যবহারে উৎসাহিত করা। ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর এসএমসি ভ্রাম্যমান স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে দেশব্যাপী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যানে কাজ করছে। মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার লক্ষে সারা দেশকে ঢাকা, কুমিল্লা, বগুড়া ও খুলনা এ ৪টি ভাগে ভাগ করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এসএমসি (সোসাল মার্কেটিং কেম্পানী)। বাংলাদেশের পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী সংস্থার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে এসএমসি। যার অংশ হিসেবে ১৯৭৫ সালে এটি দেশের প্রথম জন্মনিয়ন্ত্রন পিল মায়া উৎপাদন করে। এর পর বছর বছর এসএমসি মানসম্মত জন্ম নিয়ন্ত্রন পিল,ইনজেকশান ও কনডম সহ স্বাস্থ্যসেবার নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করে। এর বিভিন্ন রকমের খাওয়ার পিলের মধ্যে রয়েছে ফেমিকন, মিনিকন, নরডেট-২৮, ফেমিপিল ইত্যাদি। বিভিন্ন ধরনের কনডম যেমন- প্যানথার, সেনসাশন, হিরো, ইউ এন্ড মি ইত্যাদির পাশাপাশি আরো আছে জন্ম নিয়ন্ত্রন ইনজেকশন সোমাজেক্ট। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর ফমূর্লা অনুযায়ী ডায়েরিয়া প্রতিরোধে এসএমসি ORSaline-N ও ORSaline Fruity
উৎপন্ন করেছে। এছাড়া সরাসরি ফোনে দূরদূরান্তে স্বাস্থ্যসেবা দিতে রয়েছে টেলি জিজ্ঞাসা নামে একটি বিশেষ সেবা পদ্ধতি। এর মাধ্যমে পুরুষ ও মহিলারা আলাদা নম্বরে ফোন করে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে থাকে। প্রতিটি পন্যের গুনগত মান রক্ষার মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশ বিদেশে বেশ সুনাম অর্জন করেছে এসএমসি। সুবিধাবঞ্চিত জনগনকে তুলনামূলকভাবে ভাল স্বাস্থ্যসেবা, পারিবারিক সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি ও নারী পাচার প্রতিরোধে কাজ করছে। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ব্লু-স্টারের আওতায় দেশব্যাপী ৩৬০০আওটলেট আছে প্রতিষ্ঠানটির। জীবন মানোন্নয়নে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীর সাথে সমন্নয় সাধন করে কাজ করার জন্য ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী এ সংস্থাটি ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। সংস্থাটির মূল লক্ষ হলো সু-ব্যবস্থাপণা ও স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ বিদেশে স্বাস্থ্যসেবায় খ্যাতি অর্জন করা। |