জাফর সাদেক শিবলী
আমারহেলথ( ১৪ জুন, বুধবার )বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অপুষ্টি। প্রায় ১৬ কোটি জনসংখ্যার জন্য আরো অন্যান্য চ্যালেঞ্জ থাকলেও অন্যসব বিষয়গুলোকে ছাড়িয়ে গেছে পুষ্টিহীনতা।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক, ইউনিসেফ, সেভ দ্য চিলড্রেন ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর গবেষণাতেও এ ব্যাপারে একই রকম ফলাফল উঠে এসেছে। সংস্থাগুলোর মতে, বাংলাদেশের এখনকার দারিদ্র্য আসলে অপুষ্টির দারিদ্র্য।
বিশ্বব্যাংকের হিসেব মতে, বাংলাদেশের প্রতি ৫ শিশুর দুই জনই বড় হচ্ছে অপুষ্টিকে সঙ্গী করে। আর এই অপুষ্টির মাপকাঠিতেই এখন নিরুপিত হচ্ছে দেশের দারিদ্র্য। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে এখন দেশের মোট দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি।
বিশ্বব্যাংক দাবি করেছে যে, আগামী চার বছরের সহায়তা কৌশলে বাংলাদেশ সরকারকে অবশ্যই পুষ্টির উপর নজর দিতে হবে।
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা(এমডিজি) অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রায় সবক’টি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়েছে। এর সফলতার মধ্যে রয়েছে- শিশু মৃত্যু হার কমে যাওয়া, নারী ও পুরুষের বৈষম্য কমে আসা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ভর্তির হার বৃদ্ধি ইত্যাদি।
ছোটখাটো অর্জনের মাঝে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই বলে ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে কতিপয় উন্নয়ন সহযোগী। তাদের মতে, সামনে আরও অনেক চ্যালেঞ্জ আসছে। যার মধ্যে একটি বড় ব্যাধি হচ্ছে অপুষ্টি। অপুষ্টিই হচ্ছে সামাজিক খাতের এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা। তবে পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ কমে গেছে বিপুল এ জনগোষ্ঠীর। যার বেশিরভাগই জুড়ে আছে শিশুরা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০০৯ সালের সামাজিক গবেষণাতে দেখা যায় যে, বিপুল সংখ্যক মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাত্রার ব্যয় ঋণের ওপর নির্ভর হয়ে পড়েছে। আর এটাই অপুষ্টির মাত্রা বৃদ্ধির বড় কারণ।
বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সার্বিকভাবে গত এক বছরে বাংলাদেশের দারিদ্র্যের মাত্রা কমপক্ষে এক শতাংশ বেড়েছে। এটা মূলত না খেয়ে মরার দারিদ্র্য না, পুষ্টির দারিদ্র্য।
সেভ দ্য চিলড্রেন, ইউকে-এর তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বছর গুলোতে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির মান আরও হুমকির মুখে পড়েছে।
|